
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের লোহার বিম, টিনের শেড ভেঙে বিপর্যয়। অসমর্থিত সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বহু গুণে বাড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার করে আহতদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএমে। ট্রমা কেয়ার সেন্টারে বাড়তি ব্যবস্থা। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ১৩ জনকে ট্রমা কেয়ারে আনা হয়েছে। বাইরে জায়গায় সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে, যাতে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না হয়। যাঁদের উদ্ধার করা হচ্ছে, তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চার জনের নাম আপাততভাবে জানা যাচ্ছে।
এসএসকেএম-এ ভর্তি রয়েছেন দুর্বাশা মল্লম (৫৬), মানিক চাঁদকুমার (২২), শহিদ কুমার (২৬)। তাঁদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দুর্ঘটনাস্থলে চলছে উদ্ধারকাজ। এখন পৌঁছেছে সেনা, NDRF এর টিম। উদ্ধারকার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোলিক ল্যাডার, ড্রিলিং মেশিন। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স।
ভিতর থেকে ভেসে আসছে বাঁচার আর্তনাদ। দুর্ঘটনাস্থলে ধরা ভয়ঙ্কর এক-একটা ছবি। কোথাও কাটা বিমের ভিতর থেকে হাত বার করে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছেন কেউ, কোথাও দুটো বিমের মাঝে ঝুলে কাটা পা, কোথাও থেঁতলে গিয়েছে মাথা।
৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রেস ব্রিজের ডিপোর কাছে গোডাউনটি তৈরি হচ্ছিল। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন রাকেশ সিং। তৃণমূল কাউন্সিলর এলাকায় পৌঁছলে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করা হয়।
তাঁর আমলেই এই নির্মাণ শুরু হয় বলে অভিযোগ। রাকেশ সিং বলেন, “আমি তো নিজে হাতে ৬ জনের দেহ বার করেছি। ওর কী ব্যবসা জানি না, ওর নাম প্রথম শুনলাম। যে মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেখলেই বুঝতে পারবেন। আসলে তৃণমূলের পাপটা আমাদের ভুগতে হচ্ছে। আমরা ৪ ঘণ্টা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। তখন পুলিশও পৌঁছয়নি। যাঁর আওয়াজ শুনছি, তাঁকে টেনে বার করছি। ঢালাই হাত দিয়ে টানলেই বেরিয়ে যাচ্ছে।”
নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।