
কলকাতা: কলকাতা ছাড়ার পর তসলিমা বারবার বলেছেন, ‘আমি ওদের থেকেও বেশি বামপন্থী।’ কেন বামপন্থীরা তাঁকে দেশছাড়া করার উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে এসেছে তাঁর কথায়। পরবর্তীতে মানসিক-শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগও তুলেছিলেন বামপন্থী সরকার তথা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের বিরুদ্ধে। সেই তসলিমা নাসরিন এবার বিজেপি সরকারের আমলে ফিরছেন কলকাতায়। সব ঠিক থাকলে আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে শোনা যাবে তসলিমার কন্ঠস্বর। তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিশিষ্টরা।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা। পরে কলকাতায় ছিলেন বেশ কিছু সময়। ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর কিছু মৌলবাদী সংগঠনের সমর্থনে কলকাতায় শুরু হয় বিক্ষোভ। শহর ছাড়ে হয় তাঁকে। বিজেপি সরকারের আমলে তসলিমার ফেরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কাজী মাসুম আখতার বলেন, “একজনকে তাঁর লেখার জন্য, ভাবনা ব্যক্ত করার জন্য, তাঁকে যেভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল, এটা আমাদের লজ্জা। বাঙালির লজ্জা। ভারতে মুক্তচিন্তার জয়গান হয়। সেখান থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছিল। যে বামপন্থীরা উদারতার কথা বলেন, কেবলমাত্র ক’টা ভোটের জন্য তারাই তাড়িয়ে দিয়েছিল। আর তৃণমূলের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো।” তসলিমাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদারও জানিয়েছেন, তসলিমা ফিরছেন জেনে তিনি খুশি। তিলোত্তমা বলেন, “সিপিএম আর তৃণমূল, দুটো আলাদা আদর্শের সরকারকে দেখেছি, তাঁরা তসলিমাকে ব্রাত্য করে রেখেছিলেন। বিজেপি যে ঔদার্য দেখাচ্ছে, তাতে ভালো লাগছে।”
বাম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “ওঁর স্টেটাস নিয়ে অনেক কথা বলেছেন শমীক ভট্টাচার্যরা। সিএএ, এনআরসি নিয়ে কোনও কথা বলেননি। সেই সময় কী ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা নিয়ে বিজেপি এখন নিজেদের বক্তব্য তৈরি করবে। কিন্তু মানুষ তাতে আর বিশ্বাস রাখবে বলে মনে হয় না।”