
কলকাতা: দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে তৃণমূল (TMC) থেকে। তারপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করে এই দুই বিধায়ক। সোমবার টিভি ৯ বাংলা একটি সাক্ষাৎকার নেয় উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক (Uluberia Purba MLA) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তৃণমূলের অন্দরের ঝামেলা এবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন তিনি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখছি এমন অনেক নাম রয়েছে যে বিধায়করা নেই। ব্লক লেটারে লেখা। এমন বিধায়ক নেই, তাহলে তার নাম কারা লিখল? এটা CID দেখবে।
Tv9 বাংলা: এই কটাক্ষ কাকে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি সন্দীপন শপথ গ্রহণ করেছি সংবিধানের নামে। পার্টিতে তো বলে লাভ হচ্ছে না। একাধিকবার বলেছি। তাহলে কার কাছে যাব? প্রামাণিক তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এজন্টের সই নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। যখন বললাম সাংবাদিক বৈঠক করব। বলা হল, উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস, সভাপতি আকবর শেখের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। কিন্তু প্লিজ পুলক রায়ের বিরুদ্ধে বলবেন না। কোথাও আড়ালের চেষ্টা। পুষ্পা নিয়ে বললাম, সেইদিনই বলেছি। এটা তো চুরি। যে চুরি করছে তাকেই বলব যে, আপনি কেন চুরি করছেন? আমাদের মনে হয়েছে এটা অধ্যক্ষকে জানানো দরকার। তাই তাঁকেই জানিয়েছি।
Tv9 বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের নাম নিলেন, আপনাদের চিঠিতেই তদন্ত। আপনারা তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছেন। এখন যাঁদের সমর্থনে জিতলেন তাঁরাই যদি বিশ্বাসঘাতক বলেন কী বলবেন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: বাকস্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। যে কেউ যা খুশি বলুক। আমি কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে আগেই বলেছি। আমি বুঝেছিলাম, উলুবেড়িয়া পূর্বের মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। ১০ হাজার ভুতুড়ে বাড়ি। অর্থাৎ খাতায় কলমে আছে। বাস্তবে নেই। এই বাড়ি তৈরির টাকা কার পকেটে গেছে, কোন উলুবেড়িয়ার সরকার সাপ্লাই করেছেন। এগুলো তদন্তের আওতায় আসার দরকারা। এখন তৃণমূলের অনেকে বলছেন। কারও নাম দেখিয়ে বিব্রত করব না। তবে এই বলা সবে শুরু হয়েছে। বেইমান বলবে। চোর বলবে না। আমি পাইলট কার ছাড়া দিব্যি ঘুরছি।
Tv9 বাংলা: এই কটাক্ষ কাকে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: যাঁদের চোর শুনতে তাঁদের বলছি। আমি ভোটের ৩৭ দিন আগে থেকে উলুবেড়িয়ায় কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমি সেখানে ফ্রি-লি যাচ্ছি।কোথাও চোর শুনতে হচ্ছে না।
Tv9 বাংলা: আমরা জানতাম অভিষেক আপনার উপর আস্থা রাখেন। আপনার সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ। অভিষেককে নিয়ে কোনও সমস্যা হল?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: এটা ব্যক্তির বিষয় নয়, এটা সার্বিক বিষয়। একটা দল হেরে গিয়ে বলছে জিতেছে।
Tv9 বাংলা: এটা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন…
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: একটা পার্টি ওভার অল বলছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি একটা ইস্যু।
Tv9 বাংলা: এগুলো তৃণমূলের অন্দরে থেকে বলতে পারতেন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: কোথায় বলব?তৃণমূলের অভ্যন্তরে। তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে একজন বলছেন। এখানে সং আছে গঠন নেই। আপনি বলছিলেন না আমি আস্থা ভাজন? আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা হলুদ জামা পরে, কেক নিয়ে পতাকা নিয়ে …একটা ফুটেজ দেখাতে পারে রাজনীতি ছাড়ব। ওটা আমার দ্বারা হবে না
Tv9 বাংলা: এই চিঠির পরিণতি কী হবে আপনি জানেন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: পুষ্পাকে নিয়ে এত কথা বলেছিলাম, সেদিন ভেবেছিলাম বহিষ্কার হব। দলের কর্মীরা আক্রান্ত আর টপ লিডারশিপ রোজ মিটিং করছেন কতজন আছে। সংখ্যা গোনার মতো ১ ২ ৩ ৪। আর এই গুনতে গুনতে ছাব্বিশ দিন কেটে গেছে। তারপর চোর চোর আওয়াজ উঠছে।
সবাই যেদিন উঠে দাঁড়ান হাততালি দিল…। ওইদিন কোনও রেজুলিউশান হয়নি। একটাই রেজুলিউশান হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাতে হবে। আমি ওই দিন আধা উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। পুরো ভয় মুক্ত নই। আর সেদিন যিনি বসেছিলেন তিনি আমার থেকে অনেক বেশি সাহসি। আমার থেকে অনেক বেশি দম রাখেন। আর সাহস যেহেতু সংক্রামক। সেইটাই হয়েছে বলতে পারেন।
Tv9 বাংলা: ৬ তারিখ রেজুলিউশান ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানানোর?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়:১৯ তারিখ রেজুলিউশন হয়নি। আরে অন্য জায়গায় রয়েছেন, তার সই। আরে এটা করা যায় না। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার নন। স্পিকার সরকারি দলের নয়।
Tv9 বাংলা: প্রায় ৫০ জন আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। নব একটা তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল ভেঙে আগামী দিনে গঠন হতে চলেছে
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: তাহলে আমি খুবই শক্তিশালী। কারণ আমার কাছে এমন তথ্য নেই।
Tv9 বাংলা: কুণাল ঘোষ বলেছেন আপনি বিশ্বাসঘাতক
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: বাক স্বাধীনতা আছে। উনি ব্রেক ফেল গাড়ি।