Hybrid Ferry: পর্যটনের ভোল বদলাতে ৪৫ কোটির মেগা চুক্তি, চন্দননগর-ব্যারাকপুর-দক্ষিণেশ্বর রুটে চলবে হাইব্রিড ফেরি

Hybrid Diesel Electric Ferry Service: দু'টি ফেরি হবে। প্রতিটির নির্মাণ খরচ ২১ কোটি করে। মোট ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই দু'টি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি তৈরি করা হচ্ছে। যা মূলত বাণিজ্যিক এবং যাত্রীবাহী হিসেবে ব্যবহার করা হবে। 'ইন্ডিয়ান রেজিস্টার অফ শিপিং' (IRS) দ্বারা অনুমোদিত এই জলযানগুলিতে শব্দ ও কম্পন কম হওয়ায় যাত্রীরা আরও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন।

Hybrid Ferry: পর্যটনের ভোল বদলাতে ৪৫ কোটির মেগা চুক্তি, চন্দননগর-ব্যারাকপুর-দক্ষিণেশ্বর রুটে চলবে হাইব্রিড ফেরি
প্রতীকী ছবিImage Credit source: Meta AI

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Aug 29, 2026 | 3:10 PM

কলকাতা : রাজ্য পর্যটনের ভোল বদলাতে বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেডের সঙ্গে এবার ৪৫ কোটির মেগা চুক্তি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এই চুক্তির আওতায় বেশি কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন দু’টি অত্যাধুনিক হাইব্রিড ফেরি (Hybrid Ferry) এবং জলদাপাড়ার ভেঙে যাওয়া স্থানে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

শনিবার কলকাতায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh), পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং জিআরএসই-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমোডোর পি আর হরি (অবসরপ্রাপ্ত)। এ ছাড়াও জিআরএসই এবং ডব্লিউবিটিডিসিএল-এর পদস্থ আধিকারিকেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠান থেকেই ৪৫ কোটির বিশেষ চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় কী কী সিদ্ধান্ত?

হাইব্রিড ফেরি

দু’টি ফেরি হবে। প্রতিটির নির্মাণ খরচ ২১ কোটি করে। মোট ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই দু’টি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি তৈরি করা হচ্ছে। যা মূলত বাণিজ্যিক এবং যাত্রীবাহী হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’ইন্ডিয়ান রেজিস্টার অফ শিপিং’ (IRS) দ্বারা অনুমোদিত এই জলযানগুলিতে শব্দ ও কম্পন কম হওয়ায় যাত্রীরা আরও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন।

আকার ও ক্ষমতা: ফেরিগুলি ২৪ মিটার লম্বা এবং ৮ মিটার চওড়া হবে। এর ড্রাফট ক্ষমতা ১ মিটার এবং এতে ১০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে।

গতিবেগ: এই জলযানগুলি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক মোডে সর্বোচ্চ ৯ নট এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মোডে ৭ নট গতিবেগে চলতে সক্ষম।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: ব্যাটারি এবং ডিজেল জেনারেটর সমৃদ্ধ উন্নত ব্যবস্থার কারণে এই ফেরিগুলি কার্বন নির্গমন এবং পরিচালন খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

ফেরির রুট : বিশেষ চুক্তির আওতায় তৈরি হওয়া দু’টি অত্যাধুনিক হাইব্রিড ফেরি চন্দননগর, ব্যারাকপুর এবং দক্ষিণেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে চালানো হবে।

বেলি ব্রিজ

বেলি ব্রিজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

সময়সীমা: আগামী ১৫ মাসের মধ্যে এই সমস্ত প্রকল্প সম্পূর্ণ করে রাজ্য সরকারকে সরবরাহ করবে জিআরএসই।

জলদাপাড়ার ভাঙা স্থানে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে এই বেইলি ব্রিজটি (70R রোড ক্লাস) স্থাপন করা হবে, যা ওই অঞ্চলের পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে।

প্রসঙ্গত, জিআরএসই এ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা, বিআরও এবং বিভিন্ন সংস্থাকে ৫,৯০০টিরও বেশি বেইলি ব্রিজ সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নেক্সট-জেনারেশন জিরো-এমিশন ইলেকট্রিক ফেরি ‘ঢেউ’ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল জিআরএসই। নতুন এই চুক্তি মিলিয়ে সংস্থাটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য মোট ১৩টি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি তৈরি করছে। এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us