
কলকাতা: পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে ৪৫ কোটির মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)। ইতিমধ্যেই গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে পর্যটন দফতর। ওই প্রকল্পের আওতায় হাইব্রিড ফেরি(Hybrid Ferry), বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এদিকে, সুন্দরবনের পর্যটকদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। জলপথে জুড়তে চলেছে কলকাতা-সুন্দরবন। চালু হবে ‘হাইব্রিড ওয়াটারওয়েজ ভেসেল’।
বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে শনিবার একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। কলকাতায় গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এর একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার ব্লুপ্রিন্ট পেশ করেন মন্ত্রী। ৪৫ কোটির প্রকল্পের মূল স্তম্ভ তিনটি। সাস্টেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার (টেকসই পরিকাঠামো), গ্রিন মোবিলিটি (দূষণমুক্ত যাতায়াত), ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজম (পরিবেশবান্ধব পর্যটন)। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনা এবং নীতিকে সামনে রেখেই এই নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
শঙ্কর ঘোষ আরও জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে সুন্দরবনে চালু হবে ‘হাইব্রিড ওয়াটারওয়েজ ভেসেল’। সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে উল্লেখ করতে করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সুন্দরবন মানে শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নয়, সুন্দরবনের আসল প্রাণ তার ম্যানগ্রোভ অরণ্য।” সেই সুন্দরবনের জন্যই জলপথকে এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে কলকাতা থেকে সরাসরি সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যাধুনিক ‘হাইব্রিড ওয়াটারওয়েজ ভেসেল’ (Hybrid Waterways Vessel) ব্যবহার করা হবে। এর ফলে পর্যটকেরা জলপথেই সম্পূর্ণ যাত্রার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন এবং সড়কপথের যাত্রা অনেকটাই বাইপাস করা সম্ভব হবে। সুন্দরবনে সরাসরি চার্জিং স্টেশন না থাকার কারণে পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি বিকল্প ও চমৎকার কৌশল নিয়েছে পর্যটন দফতর।
মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “সুন্দরবনের একেবারে কাছাকাছি যে সমস্ত এলাকা পর্যন্ত বাস বা অন্যান্য যানবাহনের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা (সহজ যাতায়াত মাধ্যম) রয়েছে, জলপথের এই হাইব্রিড ভেসেলগুলি পর্যটকদের ঠিক সেই প্রান্তিক পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।”