
কলকাতা: ভোটের প্রথম দফা কাটল গরমে। এবার দ্বিতীয় দফায় ভাসবে বাংলা। আগমী বুধবার, ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Assembly Election Second Phase Voting)। ৪ মে রেজাল্ট। ভোটের হাওয়া বদলাবে কি না, তা কেউ বলতে না পারলেও, আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, আজ থেকেই বাংলার হাওয়া পাল্টাবে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল, কাঠফাটা গরমের মধ্যে এপ্রিল মাসের শেষভাগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। এই সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। এর জেরে তাপমাত্রাও বেশ কিছুটা কমবে। জেলায় জেলায় ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় আজ আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। দুপুর বা বিকেলের দিকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির ঘরে থাকবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতাও অনেকটা থাকবে। ৫৯ থেকে ৯১ শতাংশ থাকতে পারে আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
আজ থেকেই বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। রবি-সোম-মঙ্গল-এই তিনদিন একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। শুধু বৃষ্টি নয়, সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখীর সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
ঝড়বৃষ্টির কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এই কারণে রবিবার ও সোমবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। সকাল থেকেই বজ্রবিদ্যুৎসহ টানা প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে ধুপগুড়িতে। একাধিক এলাকায় বড় বড় সুপারি গাছ ও নারকেল গাছ ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের তারের উপর গাছ ভেঙে পড়ায়, ধূপগুড়ি শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। টানা ঝড়-বৃষ্টির জেরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে সমস্যায় পড়েছেন ফুটপাথ ব্যবসায়ীরা। এদিন হাটবার হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দোকান বসাতে পারেননি বহু ছোট ও খুচরো ব্যবসায়ী। ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তায় পড়েছেন তারা।
ধূপগুড়ির পাশাপাশি বানারহাট, গয়েরকাটা এলাকাতেও শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। পাহাড়ি এলাকা চামুর্চি এবং ভুটান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি। দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন চাষিরাও। সকালবেলায় বাগানে কাজে গিয়েই অনেক শ্রমিক ও কৃষক বৃষ্টির মুখে পড়েছেন, যার ফলে কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস আপাতত উত্তরবঙ্গের ৩ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে।