
কাঁচা বাজার কিংবা রান্না করা খাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে আমরা অনেকেই চোখ বন্ধ করে ফ্রিজের ওপর ভরসা করি। কিন্তু রান্নাঘরের সব উপাদান বা ফল-মূল ফ্রিজে রাখা আদৌ নিরাপদ নয়। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কিছু খাবারের ক্ষেত্রে ফ্রিজের নিম্ন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উল্টে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এতে খাবারের স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ তো নষ্ট হয়ই, পাশাপাশি কমে যায় পুষ্টিগুণও। জেনে নিন এমন ৮টি পরিচিত খাবার, যা ভুলেও ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।
১. আলু
আলু ফ্রিজে রাখলে এর মধ্যে থাকা স্টার্চ বা শ্বেতসার দ্রুত শর্করায় বা চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে রান্নার পর আলুর স্বাদ মিষ্টি হয়ে যায় এবং এর স্বাভাবিক টেক্সচার নষ্ট হয়। আলু সব সময় ঘরের শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত।
২. পেঁয়াজ
ফ্রিজের আর্দ্র পরিবেশের কারণে পেঁয়াজ দ্রুত নরম ও ছাতা ধরা (ফাংগাস) হয়ে যায়। তাই খোসা ছাড়ানো না থাকলে পেঁয়াজ খোলামেলা ও হাওয়া-বাতাস খেলে এমন জায়গায় রাখা ভালো। তবে আলু ও পেঁয়াজ কখনও একসঙ্গে রাখবেন না, এতে দুটিই দ্রুত পচে।
৩. রসুন
ফ্রিজে রসুন রাখলে তা ভেতর থেকে অঙ্কুরিত হতে শুরু করে এবং দ্রুত নরম ও রবারের মতো হয়ে যায়। এমনকী, খোসার নিচে ছত্রাক জন্ম নেওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
৪. মধু
মধু এমন একটি খাবার যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বছরের পর বছর ভালো থাকে। এটি ফ্রিজে রাখলে জমে শক্ত ও দানা দানা (ক্রিস্টালাইজড) হয়ে যায়, ফলে এর প্রাকৃতিক মসৃণতা ও গুণাগুণ নষ্ট হয়।
৫. টমেটো
ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডায় টমেটোর ভেতরের কোষের দেয়াল ভেঙে যায়। ফলে টমেটোর নিজস্ব স্বাদ হারিয়ে যায় এবং এটি নরম ও পানসে হয়ে পড়ে। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলেই টমেটো ভালো থাকে।
৬. কলা
কাঁচা বা হালকা পাকা কলা ফ্রিজে রাখলে পাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থমকে যায়। ফ্রিজের ঠান্ডায় কলার খোসা দ্রুত কালো হয়ে গেলেও ভেতরের অংশ অপরিপক্বই থেকে যায়।
৭. পাউরুটি
অনেকেই পাউরুটি বেশি দিন ভালো রাখতে ফ্রিজে রাখেন। তবে ফ্রিজের ঠান্ডা আবহাওয়া পাউরুটিকে দ্রুত শুকিয়ে ফেলে এবং এটি শক্ত ও কড়া হয়ে যায়। দু-এক দিনের মধ্যে খাওয়ার হলে পাউরুটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এয়ারটাইট পাত্রে রাখাই শ্রেয়।
৮. কফি (কফি বিন বা পাউডার)
কফি ফ্রিজে রাখলে তা ফ্রিজের ভেতরের আর্দ্রতা এবং অন্যান্য খাবারের গন্ধ টেনে নেয়। এতে কফির নিজস্ব সুবাস ও কড়া স্বাদ একবারে নষ্ট হয়ে যায়। কফি সব সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনও কাঁচের কৌটোয় রাখা উচিত।
তাই খাবার টাটকা রাখার পাশাপাশি তাদের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।