
সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের পুরো দিনটা কেমন কাটবে। অনেকেই আছেন যাঁরা ঘুম ভাঙতেই প্রথমে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ বোলান, যা আদতে দিনটার শুরুতেই শরীরে মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ তৈরি করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আধুনিক বিজ্ঞান— দুই মতেই ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই দু’হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে ঘষা অত্যন্ত উপকারি? আজকালকার ব্যস্ত লাইফস্টাইলে এই ছোট্ট ৫ সেকেন্ডের অভ্যাস আপনার শরীরে কী কী অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনতে পারে, দেখে নিন।
আমাদের হাতের তালুতে অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত (Nerve endings) রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর যখন আমরা দুই হাত শক্ত করে ঘষি, তখন সেখানে ঘর্ষণজনিত তাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপ শরীরের সুপ্ত স্নায়ুগুলোকে সজাগ করে তোলে। ফলে অলসতা বা ঘুম-ঘুম ভাব কেটে গিয়ে নিমেষেই শরীরে এক ধাক্কায় এনার্জি চলে আসে।
হাতের তালু ঘষার ফলে উৎপন্ন তাপ এবং উদ্দীপনা হৃদপিণ্ডের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়াকে সচল করতে সাহায্য করে। এটি পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে মসৃণ করে। বিশেষ করে যাঁরা সকালে উঠে হাত-পায়ে একটু আড়ষ্টতা বা পেশিতে টান অনুভব করেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস দারুণ কার্যকরী।
দুই হাতের তালু কিছুক্ষণ ঘষে নেওয়ার পর যখন তা হালকা গরম হয়ে উঠবে, তখন সেই উষ্ণ তালু দুটি আলতো করে বন্ধ চোখের ওপর রাখুন। হাতের এই প্রাকৃতিক ও মৃদু ওম চোখের চারপাশের পেশিগুলোকে শিথিল করে। এটি চোখের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং চোখের শুষ্ক ভাব (Dry Eyes) কমাতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞান বলছে, হাতের তালুর সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পর পর মস্তিষ্ক কিছুটা আলসে মোডে থাকে। তালু ঘষার ফলে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়, তা সরাসরি মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এর ফলে মনোযোগ বা ফোকাস করার ক্ষমতা বাড়ে।
সনাতন ধর্মে ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনে করা হয়, আমাদের হাতের অগ্রভাগে দেবী লক্ষ্মী, মধ্যভাগে দেবী সরস্বতী এবং মূল বা গোড়ায় গোবিন্দ অবস্থান করেন। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই হাতের তালু ঘষে তা দর্শন করলে ইতিবাচক শক্তির (Positive Energy) বিকাশ ঘটে, যা সারাদিনের কাজে সাফল্য এনে দেয়।