
গাছপালার আশপাশে হাঁটাহাঁটি করার সময় অসাবধানতাবশত গায়ে শুঁয়োপোকা লাগা একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কিন্তু সমস্যা হল, শুঁয়োপোকা চামড়ার সংস্পর্শে এলে এর গা থেকে সূক্ষ্ম বিষাক্ত রোঁয়া ত্বকে ফুটে যায়। এর ফলে তীব্র চুলকানি, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া এবং অনেকের ক্ষেত্রে মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এই কষ্ট বেশ কিছুদিন ধরে ভোগাতে পারে।
গায়ে শুঁয়োপোকা লাগলে চটচলদি কী করবেন এবং কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন—
১.শুঁয়োপোকা গায়ে লাগলে বা স্পর্শ করলে ভুলেও সেই স্থানটি হাত দিয়ে ঘষবেন না। ঘষাঘষি করলে শুঁয়োপোকার বিষাক্ত রোঁয়াগুলি ত্বকের আরও গভীরে ঢুকে যায় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
২. আক্রান্ত স্থানে যদি এখনও রোঁয়া আটকে থাকে, তবে একটি পরিষ্কার সেলোটেপ (Cellotape) বা মাস্কিং টেপ চেপে ধরে আলতো করে তুলে ফেলুন। এতে ত্বকে বিঁধে থাকা অদৃশ্য সূক্ষ্ম রোঁয়াগুলি টেপের সঙ্গে উঠে আসবে।
৩. রোঁয়া তোলার পর আক্রান্ত স্থানটি ঠান্ডা জল ও মৃদু সাবান (Mild Soap) দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন, হাত দিয়ে জোরে ডলে ধোবেন না, জল ঢেলে আলতো করে পরিষ্কার করুন।
৪. জ্বালাপোড়া ও ফোলা ভাব কমাতে আক্রান্ত স্থানে কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে ১০–১৫ মিনিট সেঁক দিন। বরফ ত্বকের সুড়সুড়ি ও তীব্র অস্বস্তি কমাতে দ্রুত সাহায্য করে।
৫. ত্বকের ক্ষারীয় ভাব বজায় রাখতে এবং চুলকানি কমাতে বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে লাগাতে পারেন। এছাড়া বাজারে পাওয়া যায় এমন ক্যালামাইন লোশন (Calamine Lotion) ত্বকে লাগিয়ে রাখলে বেশ আরাম মেলে।
৬.অ্যালোভেরা জেল বা একটু তুলোয় নারকেল তেল নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখলে ত্বকের প্রদাহ অনেকটাই উপশম হয়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি শুঁয়োপোকার রোঁয়া চোখে বা মুখে লাগে, কিংবা গায়ে লাগার পর শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া এবং তীব্র অ্যালার্জির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে আর দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।