
ওজন কমানো থেকে শুরু করে শরীর সুস্থ রাখা— আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে ‘চিয়া সিড’ (Chia Seeds) অন্যতম জনপ্রিয় নাম। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ছোট ছোট বীজকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের শেষ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, চিয়া সিড কি সত্যিই সবার শরীরের জন্য উপযোগী? নাকি না বুঝে খাওয়ার ফলে তৈরি হতে পারে বড় কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুপারফুড হলেও চিয়া সিড সবার জন্য সমানভাবে কার্যকরী নয়। এর যেমন অনেক গুণ রয়েছে, তেমনই কিছু শারীরিক সমস্যায় এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কেন খাবেন চিয়া সিড?
চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার। জলে ভেজালে এটি বহুগুণ ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। ফলে এটি খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
রক্তে শর্করার মাত্রা এক ধাক্কায় বাড়তে দেয় না চিয়া সিড। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী।
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসে ভরপুর এই বীজ হাড় মজবুত রাখতে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারণে ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কারা সাবধানে খাবেন বা এড়িয়ে চলবেন?
চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ ন্যাচারাল ব্লাড থিনার হিসেবে কাজ করে। তাই যাঁরা রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিয়া সিড খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
চিয়া সিড স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে যাঁদের আগে থেকেই লো প্রেসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের প্রেসার মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার সমস্যা হতে পারে।
শুকনো চিয়া সিড কখনওই সরাসরি খাওয়া উচিত নয়। এটি জলের সংস্পর্শে এলেই নিজের আকারের চেয়ে প্রায় ১০-১২ গুণ জল শোষণ করে ফুলে ওঠে। খাদ্যনালীতে গিয়ে এমনটা ঘটলে শ্বাসরোধ হওয়ার মতো চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত ফাইবার থাকার কারণে যাঁদের পেটে সহজে খাবার হজম হতে চায় না বা যাঁরা আইবিএস (IBS)-এ ভুগছেন, একবারে বেশি চিয়া সিড খেলে তাঁদের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
চিকিৎসকদের মতে, চিয়া সিডের উপকারিতা পেতে হলে তা খাওয়ার আগে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট জল, দুধ, ডাবের জল বা দইয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজগুলো পুরোপুরি ফুলে উঠলে তবেই তা খাওয়া নিরাপদ। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিডই যথেষ্ট। পাশাপাশি চিয়া সিড খেলে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।