ভ্যানিশ! এই জামা পরলে, ধরা পড়বেন না সিসিটিভিতেও! কীরকম এই ‘ম্যাজিক জামা’?

বাস্তবেও আপনি হয়ে উঠতে পারবেন ইনভিসিবল ম্য়ান! নাহ, মানুষের চোখে নয়, বরং এআই সিসিটিভির ক্য়ামেরার চোখে আপনার ধরা একেবারে 'নামুমকিন'। ভাবছেন এ আবার কেমন কাণ্ড? হ্যাঁ, পুরো ব্য়াপারটাই একটি জামার কেরামতি! ব্যাপারটা একটু বিশদে বলা যাক।

ভ্যানিশ! এই জামা পরলে, ধরা পড়বেন না সিসিটিভিতেও! কীরকম এই ম্যাজিক জামা?

|

Sep 07, 2026 | 8:01 PM

ভ্যানিশ! জাদুকর পিসি সরকার হোক কিংবা সোনার কেল্লার দুষ্টু লোকের কারসাজি, অথবা সেই মিস্টার ইন্ডিয়ার গায়েব হওয়া যাওয়া। এবার শুধুই জাদুর দুনিয়া কিংবা রুপোলি পর্দা নয়, বরং বাস্তবেও আপনি হয়ে উঠতে পারবেন ইনভিসিবল ম্য়ান! নাহ, মানুষের চোখে নয়, বরং এআই সিসিটিভির ক্য়ামেরার চোখে আপনার ধরা একেবারে ‘নামুমকিন’। ভাবছেন এ আবার কেমন কাণ্ড? হ্যাঁ, পুরো ব্য়াপারটাই একটি জামার কেরামতি! ব্যাপারটা একটু বিশদে বলা যাক।

হাতা দুটো গলিয়ে গায়ের বোতাম কটা আটকে নিলেই বাস, কেল্লাফতে! সিসিটিভি ক্যামেরা হাজার চেষ্টা করেও আপনার দেখা পাবে না। রূপকথার ‘অদৃশ্য হওয়ার চাদর’ নাকি সায়েন্স ফিকশন ছবি? বাস্তব কিন্তু কোনওটাকেই পিছিয়ে রাখছে না। এমনই এক আজব ও অভিনব পোশাক বানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন জার্মানির পোশাকশিল্পী সিমন ওয়েকার্ট।

প্রথম নজরে দেখলে আর দশটা সাধারণ জামার চেয়ে আলাদা কিছু মনে হবে না। উজ্জ্বল সবুজ, কমলা আর গোলাপির আঁকিঁবুকি কাটা একটি হাফ-হাতা জংলা প্রিন্টের শার্ট। দেখতে এই জামা ফ্যাশনের দিক থেকে খুব একটা আহামরি বলা চলে না। তবে ফ্যাশন নয়, এই শার্টের জাদু লুকিয়ে রয়েছে এর বিচিত্র রঙ আর অদ্ভুত প্রিন্টের ভেতরেই।

পোশাকটির কার্যকারিতা বোঝাতে সিমন একটি লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ওই জংলা শার্ট পরা এক যুবক সিসিটিভির একদম সামনে দিয়ে যাতায়াত করছেন, অথচ আধুনিক এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা তাঁকে ‘মানুষ’ বা ‘পার্সন’ হিসেবে চিনতেই পারছে না! সিসিটিভির মনিটরে তাঁর আশপাশের অন্যান্য মানুষদের ওপর সবুজ ডিজিটাল ফ্রেম তৈরি করে চিহ্নিত করা হলেও, ওই বিশেষ শার্ট পরা যুবকের ক্ষেত্রে ক্যামেরা সম্পূর্ণ ‘অন্ধ’। সামনে দিয়ে অনবরত হাঁটাচলা করা সত্ত্বেও যন্ত্রের ডিজিটাল চোখ তাঁকে মানুষ বলে ধরতে পারছে না। মানুষ চোখ মেলে তাঁকে দেখতে পেলেও প্রযুক্তি কিন্তু তাঁকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে। সিমন তাই এই পোশাকের নাম দিয়েছেন ‘ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ’।

এই অদ্ভুত উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে জার্মানির বার্লিন প্রশাসনের এক সিদ্ধান্ত। শহরের সমস্ত সার্বজনীন স্থানে নাগরিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয় নগর কর্তৃপক্ষ। সরকারি নজরদারির এই নজরদারি ব্যবস্থাকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো যায় এবং প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করতেই এই শার্ট তৈরির পরিকল্পনা করেন সিমন।

সিমন জানান, সিসিটিভির নজরদারি এড়ানোর এই শার্ট বানাতে তিনি কিন্তু সাহায্য নিয়েছেন খোদ কৃত্রিম মেধা বা এআই-এরই! সিসিটিভি ক্যামেরার যে ‘ভিশন সিস্টেম’ মানুষের নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি, হাঁটার ধরণ ও রঙের প্যাটার্ন দেখে তাকে চিনতে শেখে, সেই অ্যালগরিদমকেই ধোঁকা দেয় শার্টের ওই বিশেষ প্রিন্ট। এর গায়ে থাকা বিচিত্র রঙ ও আঁকিঁবুকি এআই-এর বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে। ফলে মানুষের সামনে থাকা সত্ত্বেও ক্যামেরা তাকে অন্য কোনও সাধারণ বস্তু ভেবে ভুল করে।

ভিজিটাল ভিশন প্রযুক্তিতে একাধিক পরীক্ষার পর শতভাগ সফল হয়েই এই শার্ট বাজারে এনেছেন তিনি। তবে এই প্রযুক্তি যদি অপরাধীদের হাতে পড়ে, তবে কি বিপদের ঝুঁকি বাড়বে? বিশেষজ্ঞ ও শিল্পীর মতে, এতে ভয়ের কিছু নেই। ক্যামেরা প্রযুক্তি হয়তো ওই ব্যক্তিকে মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে সবুজ ডিজিটাল বক্স তৈরি করবে না, কিন্তু স্ক্রিনে মানুষকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যাবেই। সুতরাং খালি চোখে ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে কোনও অপরাধীরই পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us