Gamcha vs Towel for Skin: গামছা নাকি তোয়ালে, ত্বকের জন্য কোনটা ভালো?

Skin Care Tips : বাঙালি সংস্কৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে লাল-নীল চেক কাটা সুতির গামছা। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এবং নগরায়ণের ছোঁয়ায় সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে বিলাসবহুল, নরম তুলতুলে তোয়ালে বা বাথ টাওয়েল। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়— ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক কোনটা বেশি উপকারী? ঐতিহ্যবাহী গামছা, নাকি আধুনিক তোয়ালে?

Gamcha vs Towel for Skin: গামছা নাকি তোয়ালে, ত্বকের জন্য কোনটা ভালো?

|

Jul 13, 2026 | 5:33 PM

স্নান শেষে শরীর ও মুখ মোছার জন্য যুগ যুগ ধরে বাঙালি সংস্কৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে লাল-নীল চেক কাটা সুতির গামছা। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এবং নগরায়ণের ছোঁয়ায় সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে বিলাসবহুল, নরম তুলতুলে তোয়ালে বা বাথ টাওয়েল। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়— ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক কোনটা বেশি উপকারী? ঐতিহ্যবাহী গামছা, নাকি আধুনিক তোয়ালে?

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি (The Ohio State University) এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যবহৃত কাপড়ের হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একটি গবেষণা চালান।

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তোয়ালে মূলত মোটা এবং ভারী ‘টেরি ক্লথ’ (Terry Cloth) বা পলিয়েস্টার মিশ্রিত সুতো দিয়ে তৈরি হয়। এর বুনন ঘন হওয়ায় এটি প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু সহজে শুকাতে চায় না। বাথরুমে বা ঘরের ভেতরের আর্দ্র (Humid) পরিবেশে ভেজা তোয়ালে দীর্ঘক্ষণ থাকলে তাতে দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন: E. coli বা Staphylococcus) এবং ফাঙ্গাস বংশবৃদ্ধি করে।

অন্যদিকে, দেশি গামছা তৈরি হয় শতভাগ খাঁটি সুতি সুতো দিয়ে। এর বুনন পাতলা ও হালকা হওয়ায় বাতাস সহজেই এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। ফলে ব্যবহারের পর গামছা অত্যন্ত দ্রুত শুকিয়ে যায়। গবেষণাগারে দেখা গিয়েছে, দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার এই ক্ষমতার কারণে গামছায় ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধার সুযোগ তোয়ালের তুলনায় প্রায় ৬০% কম থাকে।

আমাদের গায়ের ত্বক প্রতিনিয়ত মরা চামড়া বা ডেড স্কিন সেল ত্যাগ করে। স্নানের পর নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছলে ত্বক আরাম পায় ঠিকই, কিন্তু মরা চামড়া পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। অপরদিকে, গামছার বুননে যে হালকা খসখসে ভাব বা টেক্সচার থাকে, তা প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের দুর্দান্ত ‘এক্সফোলিয়েটর’ হিসেবে কাজ করে। গামছা দিয়ে হালকা হাতে শরীর মুছলে ত্বকের উপরিভাগের মরা চামড়া এবং রোমকূপে জমে থাকা ময়লা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতেও সাহায্য করে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের পিঠে, বুকে বা মুখে ঘন ঘন ব্রণ (Acne) বা র‍্যাশ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের জন্য তোয়ালের চেয়ে গামছা অনেক বেশি নিরাপদ। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এবং স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে মুখে ছোঁয়ালে তোয়ালের ভেতরের ফাঙ্গাস ত্বকে স্থানান্তরিত হয়, যা ব্রণ ও ত্বকের অ্যালার্জি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গামছা পাতলা হওয়ায় এটি প্রতিদিন ধুয়ে ফেলা এবং রোদে শুকানো অত্যন্ত সহজ, যা তোয়ালের ক্ষেত্রে রোজ রোজ সম্ভব হয় না।

মার্কিন গবেষকদের প্রকাশিত রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আর্দ্র জলবায়ুর (Tropical Climate) দেশগুলোতে— যেখানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে, সেখানে ভারী তোয়ালের চেয়ে পাতলা, দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন সুতির কাপড় ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি হাইজেনিক।

তোয়ালে আমাদের সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু আমাদের আবহাওয়া এবং ত্বকের সামগ্রিক সুরক্ষার নিরিখে শতভাগ সুতির হালকা গামছাই শেষ পর্যন্ত জয়ী। তবে আপনি গামছা ব্যবহার করুন বা তোয়ালে— বিশেষজ্ঞদের প্রধান পরামর্শ হল, সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার তা ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে। কারণ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই কাপড়ের ভেতরের অদৃশ্য জীবাণু ধ্বংস করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us