
রবিবারের সকালের জলখাবার হোক কিংবা বিশেষ কোনও উৎসব-অনুষ্ঠান—গরম গরম ফুলকো লুচির জুড়ি মেলা ভার। তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও কড়াইয়ের লুচি বেলুনের মতো ফুলতে চায় না, কিংবা দু-একটা ফুললেও কিছুক্ষণ পরেই তা চুপসে গিয়ে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। এর পাশাপাশি আরও একটি বড় সমস্যা হল ভাজভুজি করার সময় তেলের রঙ কালচে হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে ময়দা, আটা বা বেসনের ছোট ছোট কণা তেলে পুড়ে তেলের গুণমান নষ্ট করে দেয় এবং আগের ভাজার গন্ধ থেকে যায়।
এই জোড়া সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি নেটপাড়ায় ও অভিজ্ঞ গৃ্হিণীদের হেঁশেলে ব্যাপক নজর কেড়েছে একটি জাদুকরী ঘরোয়া কৌশল। কড়াইয়ে তেল গরম হওয়ার পর তাতে জাস্ট এক টুকরো আদা (বা সামান্য আদাকুচি) ফেলে দিলেই কেল্লাফতে! গরম তেলে আদার টুকরোটি ছেড়ে দেওয়ার পর সেই তেলেই লুচি, পকোড়া বা যেকোনো ভাজাবুজি ছাঁকা হয়। ভাজা শেষে আদার টুকরোটি তুলে ফেলে দিলেই কাজ শেষ।
কীভাবে কাজ করে এই সহজ কৌশল?
আদা তেলের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম ময়দা বা বেসনের কণাকে দ্রুত পুড়তে দেয় না। ফলে তেলের স্বাভাবিক রঙ বজায় থাকে এবং একই তেলে বারবার ভাজলেও তেল সহজে কালচে হয় না।
একই তেলে একাধিক পদ ভাজলে অনেক সময় আগের খাবারের বিশ্রী গন্ধ থেকে যায়। আদা সেই পোড়া গন্ধ শুষে নিয়ে তেলকে ফ্রেশ বা তাজা রাখতে সাহায্য করে।
তেলে আদার উপস্থিতি তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সঠিক তাপে লুচি তেলের সংস্পর্শে আসামাত্রই চারপাশ থেকে সমভাবে বাতাস ধরে রাখে এবং বেলুনের মতো ফুলে ওঠে।
তবে মনে রাখবেন, কেবল আদার ট্রিকসই শেষ কথা নয়; লুচি ফুলকো করার জন্য ময়দা মাখার সময় সঠিক পরিমাণে ময়ান (সাদা তেল বা ঘি) দেওয়া এবং ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে ময়দা একটু শক্ত করে ঠেসে মাখাও ভীষণ জরুরি। এবার থেকে লুচি ভাজার আগে কড়াইয়ের গরম তেলে জাস্ট একটুকরো আদা ফেলে দেখুন, তফাৎটা নিজের চোখেই টের পাবেন!