
কম খরচে পুষ্টির জোগান দিতে কলার কোনো বিকল্প নেই। পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফলটি ছোট থেকে বড়—সবার জন্যই অত্যন্ত উপকারী। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনও স্বাস্থ্যকর খাবারের সম্পূর্ণ গুণাগুণ তখনই পাওয়া যায়, যখন তা সঠিক সময়ে খাওয়া হয়। কলার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। ভুল সময়ে কলা খেলে উপকারের চেয়ে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
কলা খাওয়ার সেরা সময়: সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের জলখাবারের পর বা দুপুরের খাবার পর আগে, অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যবর্তী সময়টি কলা খাওয়ার জন্য সবচেয়ে সেরা।
কেন সেরা?
এই সময়ে মানুষের বিপাকহার (Metabolism) সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। ফলে কলার পুষ্টিগুণ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। এছাড়া এই সময়ে কলা খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং দুপুরের আগে কাজের জন্য শরীরে প্রচুর এনার্জির জোগান দেয়।
যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম বা জিম করেন, তাঁদের জন্য কলা একটি আদর্শ ‘প্রি-অ্যানার্জি’ বুস্টার। কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। আবার ভারী ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করতেও এটি দারুণ সাহায্য করে।
কোন সময়ে কলা খাওয়া বিপজ্জনক?
অনেকেরই ধারণা, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কলা খাওয়া ভালো। কিন্তু চিকিৎসকেরা এই অভ্যাসের তীব্র বিরোধিতা করছেন। কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। খালি পেটে কলা খেলে রক্তে এই দুই খনিজের ভারসাম্য আচমকা বিগড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া কলার অম্লীয় উপাদান খালি পেটে গ্যাস ও বদহজমের কারণ হতে পারে।
অনেক বাড়িতেই রাতে খাওয়ার পর ফল খাওয়ার একটা রেওয়াজ আছে, যা চটজলদি ত্যাগ করা উচিত। আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান—উভয় মতেই, সন্ধ্যার পর বা রাতে কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি: কলা শরীর ঠান্ডা করে। রাতে কলা খেলে সর্দি, কাশি, সাইনাস বা কফ জমার সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
হজমের সমস্যা: রাতে আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। কলায় থাকা উচ্চ ফাইবার রাতে সহজে হজম হতে চায় না, যার ফলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।