জানেন কেন মৃতদেহর নাকে-কানে তুলো দেওয়া হয়?

সাধারণত দেখা যায়, কোনও মানুষের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের আগে তাঁর নাক, কান এবং কখনো কখনো মুখেও তুলো গুঁজে দেওয়া হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই একে কেবল একটি প্রাচীন ঐতিহ্য বা কুসংস্কার বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাগত এবং ব্যবহারিক কারণ রয়েছে।

জানেন কেন মৃতদেহর নাকে-কানে তুলো দেওয়া হয়?

|

Jun 23, 2026 | 3:14 PM

এই পৃথিবীতে যাঁর জন্ম হয়েছে, তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত। সাধারণত দেখা যায়, কোনও মানুষের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের আগে তাঁর নাক, কান এবং কখনো কখনো মুখেও তুলো গুঁজে দেওয়া হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই একে কেবল একটি প্রাচীন ঐতিহ্য বা কুসংস্কার বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাগত এবং ব্যবহারিক কারণ রয়েছে।

মৃত্যুর পর মানবদেহে নানা ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে বিভিন্ন জৈবিক (Biological) পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের পরিপাকতন্ত্রে (Digestive System) উপস্থিত উপাদানগুলো থেকে মিথেন এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো একাধিক গ্যাস তৈরি হতে থাকে। এই গ্যাসগুলোর নিঃসরণ মানব শরীর এবং চারপাশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিজ্ঞান বিভাগের জুনিয়র গবেষক ভবেশ মালির মতে, মৃত্যুর পর শরীরের ভেতরের পেশিগুলো শিথিল হয়ে পড়ে এবং কিছু তরল পদার্থ উৎপন্ন হয়। এই দুর্গন্ধযুক্ত তরল নাক বা মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে, যার ফলে ব্যাকটিরিয়া খুব দ্রুত ছড়ায় এবং শরীর ফুলতে শুরু করে।

নাক ও কানে কেন তুলো দেওয়া হয়?
তুলো দেওয়ার ফলে শরীর থেকে গ্যাস এবং তরল পদার্থের নিঃসরণ বন্ধ হয়। নাক এবং কানের ছিদ্র বন্ধ থাকায় বাইরের হাওয়া ভেতরে ঢুকতে পারে না, যার ফলে মৃতদেহ সহজে ফুলে ওঠে না।

এটি দুর্গন্ধ ছড়াতে বাধা দেয় এবং শবদেহের ওপর মাছি, পোকা-মাকড় বা অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এই পদ্ধতিটি কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক কারণ ছাড়াও হিন্দু ধর্মে এর একটি বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। গরুড় পুরাণ এবং অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর শরীরের সমস্ত খোলা অংশ বা দ্বার বন্ধ করে দেওয়া উচিত। প্রাচীনকালে এই স্থানগুলোতে সোনার কণা রাখার ঐতিহ্য ছিল, তবে বর্তমানে তার পরিবর্তে তুলো বা তুলসী পাতা রাখা হয়। তুলসী পাতা রাখার পেছনে বিশ্বাস এই যে, এটি সূক্ষ্ম গ্যাসকে বিশুদ্ধ করে এবং চারপাশের পরিবেশকে পবিত্র রাখতে সাহায্য করে।

Follow Us