
নাইটি- সকালে ঘরের চেনা কাজকর্ম থেকে শুরু করে বিকেল কিংবা রাতের অবসরে, কমবেশি সব বয়সের নারীদের কাছেই এই পোশাকটি যেন আরামের আরেক নাম। তবে কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহস্থালির কাজের সময় কিংবা ঘুমের আগে এই ঢিলেঢালা পোশাকের ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় এই ‘নাইটি’ শব্দটির উৎপত্তি কীভাবে হল? কীভাবে সুদূর ইউরোপীয় অভিজাত ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ ঘরের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠল এই পোশাক?
শব্দকোষ বলছে, ‘নাইটি’ মূলত ইংরেজি ভাষা থেকে আসা একটি শব্দ। ইংরেজিতে ‘Night’ শব্দটির সহজ সরল বাংলা অর্থ হল ‘রাত’। প্রাচীনকাল থেকেই পশ্চিম দুনিয়ায় রাতের বেলা ঘুমানোর সময় গায়ে জড়ানোর জন্য এক ধরনের বিশেষ ঢিলেঢালা লম্বা গাউন বা ফ্রক আকৃতির পোশাক পরার চল ছিল। ইংরেজি ভাষায় সেই পোশাককেই সংক্ষেপে ও নির্দিষ্টভাবে বলা হত ‘নাইটগাউন’ (Nightgowns)।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার বিবর্তন ও কথ্য ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমে এই বড় নামটি বেশ ছোট হয়ে আসে। ইতিহাস ও ভাষাতত্ত্বের তথ্য অনুযায়ী, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে—বিশেষ করে ১৮৭০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যবর্তী সময়কালে ইংরেজি ভাষায় কোনও জিনিসকে ছোট নাম দেওয়ার এক বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। ঠিক সেই পথ ধরেই ‘নাইটগাউন’ শব্দটি থেকে ‘নাইট’ এবং তার সঙ্গে ‘ই’ যুক্ত হয়ে (Night + ie = Nightie) জন্ম নেয় ‘নাইটি’ শব্দটি।
শুরুর দিকে মূলত শিশুদের রাতের পোশাককে ‘নাইটি’ নামে ডাকা হত। তবে সময়ের আবর্তে এবং ব্যবহারিক সুবিধার কারণে দ্রুতই প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ঢিলেঢালা গাউনের ক্ষেত্রেও শব্দটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ভারতে এই সুতির কিংবা রেশমের ঢিলেঢালা পোশাকের আগমন কিন্তু খুব বেশি প্রাচীন নয়। ভারতে এর প্রবেশ প্রধানত ঘটেছিল ঔপনিবেশিক আমলে, অর্থাৎ ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর।
সে সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নারীরা, উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তা কিংবা ধনী অভিজাত ব্রিটিশ পরিবারের মেমসাহেবরা রাতে ঘুমনোর আগে অত্যন্ত হালকা, নরম ও ঢিলেঢালা লম্বা ধরনের গাউন পরতেন। গরম প্রধান ভারতে সেই সময়ের ভারী শাড়ি কিংবা প্রথাগত অলঙ্কৃত পোশাকের বিপরীতে এই পোশাকটি অদ্ভুত এক স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিত। সে আমলের মেমসাহেবদের পরিহিত সেই দীর্ঘ গাউন দেখেই ভারতীয় অভিজাত শ্রেণীতেও ধীরে ধীরে এই নাইটগাউনের প্রচলন শুরু হয়।