
খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত কিংবা তাড়াহুড়ো করে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ দাঁতের চাপে জিভ কেটে যাওয়ার সমস্যায় পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। জিভ কাটার ঠিক পরের মুহূর্তের তীব্র যন্ত্রণা এবং জ্বালাভাব যেকোনো মানুষেরই মুখের স্বাদ মাটি করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এমনকী, এরপর জল খেতে বা খাবার গিলতেও রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায়।
মুখের ভেতরের এই অস্বস্তিকর ক্ষত নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে ছোটবার আগে রান্নাঘরের অত্যন্ত সাধারণ কয়েকটি উপাদানের সাহায্য নিতে পারেন। আচমকা জিভে কামড় লেগে কেটে গেলে এবং তীব্র ব্যথা শুরু হলে তৎক্ষণাৎ আরাম পেতে এই ৫টি ঘরোয়া টোটকা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
১. বরফকুচির কেরামতি
জিভে কামড় লাগার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুত আরাম দেয় বরফ। আক্রান্ত স্থানে একটি বরফের টুকরো সরাসরি চেপে ধরুন কিংবা মুখের ভেতরে নিয়ে কিছুক্ষণ চুষতে থাকুন। ঠান্ডা বরফ ক্ষতস্থানটিকে সাময়িকভাবে অসাড় করে দেয়, যার ফলে ব্যথার তীব্রতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। তাছাড়া রক্তপাত শুরু হলে তা বন্ধ করতেও বরফ দারুণ কাজ করে।
২. মধুর প্রাকৃতিক নিরাময় শক্তি
মধু কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। জিভের কেটে যাওয়া জায়গায় আঙুল দিয়ে সামান্য মধু লাগিয়ে রাখুন। এটি মুখের ভেতরের অস্বস্তিকর জ্বালাভাব নিমেষেই কমিয়ে দেয় এবং যেকোনও ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে।
৩. অব্যর্থ নুন-জল
মুখের যেকোনও ছোটখাটো ক্ষত বা ঘা নিরাময়ে যুগ যুগ ধরে নুন-জলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এক গ্লাস হালকা গরম জলে আধা চামচ নুন ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই জল দিয়ে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার কুলকুচি করুন। নুন-জল মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া দূর করে ক্ষতস্থানটি দ্রুত শুকোতে সাহায্য করে।
৪. হলুদের জাদুকরী প্রলেপ
ভারতীয় রান্নার অপরিহার্য অঙ্গ হলুদ তার ভেষজ গুণের জন্য সুপরিচিত। হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদানটি ক্ষতের প্রদাহ ও ব্যথা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। এক চিমটে খাঁটি হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্টটি জিভের কেটে যাওয়া অংশে লাগিয়ে মিনিট দুয়েক রেখে ধুয়ে ফেলুন।
৫. বেকিং সোডার ব্যবহার
বেকিং সোডা মুখের ভেতরের অম্লতা বা অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে দারুণ সাহায্য করে। এক চা চামচ বেকিং সোডায় সামান্য জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি আলতো করে ক্ষতের ওপর লাগিয়ে রাখুন। এটি ক্ষতস্থানের জ্বালাভাব দূর করে মুখের লালা গ্রন্থিকে সচল রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ব্যথা দ্রুত কমে যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
জিভ কাটার পর অন্তত দিন দুয়েক অতিরিক্ত ঝাল, মশলাদার এবং অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে এই ঘরোয়া টোটকাগুলো ব্যবহারের পরেও যদি ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ব্যথা ও জ্বালা না কমে, কিংবা ক্ষত থেকে অনবরত রক্তপাত হতে থাকে, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।