
বাঙালির খাদ্যতালিকায় ভাত না হলে যেন দিনটাই অসম্পূর্ণ থাকে। তবে বহু চেষ্টা করেও অনেক সময়ই দেখা যায় রান্না করা ভাত ঝরঝরে না হয়ে গলে বা একে অপরের সঙ্গে সেটে নরম হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন জলের পরিমাপ বা আঁচের গরমের ওপর ভাতের ঝরঝরে হওয়া নির্ভর করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝরঝরে ভাতের মূল রহস্য আসলে লুকিয়ে রয়েছে চাল ধোয়ার অভ্যাসে।
কিন্তু চাল ঠিক কতবার বা কতক্ষণ ধরে ধোয়া উচিত?
অনেকেই অতিরিক্ত পরিষ্কারের আশায় ৪-৫ বার বা তারও বেশি চাল কচলে ধুয়ে থাকেন। সঠিক নিয়মে চাল ধোয়ার মাধ্যমে চালের বাইরের অতিরিক্ত স্টার্চ বা শ্বেতসার দূর হয়, যা ভাতকে আঠালো হওয়া থেকে বাঁচায়।
ঠিক কতবার চাল ধোবেন?
পরিমিত পরিষ্কার ও নিখুঁত টেক্সচারের জন্য চাল অন্তত ৩ থেকে ৪ বার ধোয়া উচিত। প্রথম দু’বার হালকা হাতে চাল ধুলে ভেতরের ধুলোবালি ও ময়লা বের হয়ে যায়। তৃতীয় ও চতুর্থবারে চালের গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত মাড় বা ফ্রি স্টার্চ ধুয়ে পরিষ্কার হয়।
চাল ধোয়ার সময় প্রথমবার জল খুব ঘোলা দেখাবে। তিন থেকে চারবার ধোয়ার পর যখন দেখবেন পাত্রের জল আর অতিরিক্ত ঘোলা থাকছে না এবং অনেকটা পরিষ্কার ও স্বচ্ছ দেখাচ্ছে, তখনই বুঝবেন চাল রান্নার জন্য একদম প্রস্তুত।
পাত্রে চাল নিয়ে হাত দিয়ে অতিরিক্ত কচলানো বা ডলে ধোয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে চালের দানা ভেঙে যায় এবং রান্নার সময় শ্বেতসার বের হয়ে ভাত আরও বেশি আঠালো হয়ে যায়। সবসময় হালকা হাতে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে চাল ধোয়া উচিত।
চাল ধোয়ার পর অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট তা পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে চাল জল শোষণ করে খানিকটা ফুলে ওঠে এবং রান্নার পর ভাতের প্রতিটি দানা সুন্দর ও লম্বাটে হয়।
চাল খুব বেশিবার ধুলে তার মধ্যে থাকা জল দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ৪ বারের বেশি চাল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ঝরঝরে ও পুষ্টিকর ভাতের জন্য ৩-৪ বার হালকা হাতে চাল ধোওয়াই আদর্শ পদ্ধতি।