
বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি বা জল জমার কারণে ঘরের ভেতর জল ঢুকে যাওয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে জল নেমে যাওয়ার পরই শুরু হয় আসল সমস্যা। ঘোলা জল, কাদা, স্যাঁতসেঁতে ভাব আর বাসি গন্ধের কারণে টাইলস, মার্বেল বা মোজাইকের মেঝে তার আসল উজ্জ্বলতা হারিয়ে একদম কালচে হয়ে পড়ে।
অনেকেই মেঝের এই দফারফা অবস্থা সামলাতে বাজারচলতি ক্ষতিকারক কেমিক্যাল যুক্ত ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহার করেন, যা অনেক সময় মেঝের স্থায়ী ক্ষতি করে দেয়। তবে চিন্তার কিছু নেই! রান্নাঘরের মাত্র কয়েকটি সাধারণ উপকরণ দিয়েই খুব সহজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব মেঝের সেই আগের আয়নার মতো চকচকে ভাব। জেনে নিন দরকারী কিছু ঘরোয়া টোটকা—
১. আগে শুকনো পরিষ্কার, তারপর মোছা
মেঝেতে জমে থাকা কাদাজল শুকিয়ে গেলে কখনওই সরাসরি ভেজা ন্যাতা দিয়ে মুছতে যাবেন না। এতে কাদা আরও ছড়িয়ে পড়ে মেঝে ঘোলাটে হয়ে যাবে। আগে ঝাড়ু বা শুকনো সুতি কাপড়ে শুকিয়ে যাওয়া ধুলো-কাদা ভালো করে ঝেড়ে ফেলে দিন।
২. ভিনেগার ও হালকা গরম জলের জাদুকরী মিশ্রণ
মেঝের চিটচিটে ভাব ও জেদি দাগ দূর করতে সাদা ভিনেগার (White Vinegar) দারুণ কাজ করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: এক বালতি হালকা গরম জলে আধ কাপ সাদা ভিনেগার এবং কয়েক ফোঁটা ডিশওয়াশিং লিক্যুইড মিশিয়ে নিন। এই জল দিয়ে ভালো করে ঘর মুছলে মেঝের ওপর জমে থাকা সমস্ত ময়লার আস্তরণ উঠে যাবে এবং মেঝের হারিয়ে যাওয়া চমক ফিরে আসবে।
৩. কাদার শক্ত দাগে বেকিং সোডা
বৃষ্টির জলের সঙ্গে আসা নোংরা যদি জমে গিয়ে মেঝেতে জেদি ছোপ তৈরি করে, তবে বেকিং সোডা ব্যবহার করুন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: সামান্য জল ও বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। দাগের ওপর পেস্টটি লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর নরম ব্রাশ বা স্ক্রাবার দিয়ে হালকা ঘষে মুছে ফেলুন। দাগ উধাও হয়ে যাবে।
৪. জীবাণু ও দুর্গন্ধ তাড়াতে পাতিলেবু ও নুন
বৃষ্টির জলের সঙ্গে ঘরে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ঢোকে, পাশাপাশি স্যাঁতসেঁতে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: ঘর মোছার জলে দুটি পাতিলেবুর রস এবং দুই চামচ নুন মিশিয়ে দিন। লেবুর প্রাকৃতিক অ্যাসিড মেঝেকে ঝকঝকে করে তোলে এবং নুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে জীবাণু ধ্বংস করে দুর্গন্ধ দূর করে।
৫. পোকামাকড় দূর করতে এসেনশিয়াল অয়েল
ঘর মোছার শেষ ধাপে জলে ৩-৪ ফোঁটা লেমনগ্রাস, নিম বা টি-ট্রি (Tea Tree) এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিতে পারেন। এটি বর্ষাকালে মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাবে এবং ঘরে এক ধরণের সতেজ সুবাস বজায় রাখবে।
আপনার ঘরে যদি মার্বেলের ফ্লোর হয়, তবে ভিনেগার বা লেবুর রস ঘন ঘন ব্যবহার করবেন না। অ্যাসিডিক উপাদানে মার্বেলের পালিশ নষ্ট হতে পারে। মার্বেলের ক্ষেত্রে হালকা গরম জলে তরল সাবান ও বেকিং সোডা ব্যবহার করাই ভালো।
ঘর মোছার পরপরই ফ্যান চালিয়ে দিন এবং জানলা খোলা রাখুন। মেঝে বেশিক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকলে আবার ফাঙ্গাস বা ছত্রাক ধরে যেতে পারে।
বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই রান্নাঘরের এই সহজ টোটকাগুলো মেনে চললে বর্ষার জল ঢুকলেও আপনার ঘরের মেঝে থাকবে একদম ঝকঝকে ও জীবাণুমুক্ত।