
প্রতিদিন সকালে দাঁত মাজার সময় জিভ পরিষ্কার করা মৌখিক স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিনের (Oral Hygiene) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে অনেকেই জিভ পরিষ্কারের জন্য স্টেইনলেস স্টিল বা প্লাস্টিকের ধাতব ‘জিভছোলা’ (Tongue Scraper) ব্যবহার করতে ভয় পান বা অস্বস্তি বোধ করেন। অনেক সময় অতিরিক্ত জোরে তা ব্যবহার করলে জিভ কেটে যাওয়া, ছাল উঠে যাওয়া বা রক্তের ছোপ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন, কোনও রকম জিভছোলা ছাড়াই রান্নাঘরের সামান্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে জিভের ওপর জমে থাকা ক্ষতিকর সাদা আস্তরণ বা ময়লা দূর করা সম্ভব?
চিকিৎসকদের মতে, জিভের উপরিভাগে থাকা ক্ষুদ্র ‘প্যাপিলা’র (Papilla) ফাঁকে ফাঁকে খাবার কণা, মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া জমে এই সাদা আস্তরণ তৈরি হয়। সময়ে এটি পরিষ্কার না করলে মুখে দুর্গন্ধ, স্বাদহীনতা এবং মুখের ভেতরে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে।
জিভছোলা ছাড়া জিভকে একদম পরিষ্কার ও গোলাপী রাখার ৫টি সহজ ও কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা জেনে নিন:
১.বেকিং সোডায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান জিভের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং মুখের স্বাভাবিক পিএইচ (pH) মাত্রা বজায় রাখে।
ব্যবহারের নিয়ম: সামান্য বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। টুথব্রাশের নরম ফাইবার দিয়ে এই পেস্ট জিভের ওপর হালকা হাতে ১ মিনিট ঘষে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
২. নুন একটি সেরা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। এটি জিভের ওপর জমানো ডেড সেল বা মৃত কোশ এবং ব্যাকটেরিয়া নিমেষেই দূর করতে সক্ষম।
ব্যবহারের নিয়ম: এক গ্লাস হালকা গরম জলে আধ চামচ নুন মিশিয়ে নিন। দিনে ২ থেকে ৩ বার এই জল দিয়ে ভালো করে কুলকুচি (Gargle) করুন। এতে জিভ পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধ থেকেও মুক্তি মিলবে।
৩. আয়ুর্বেদে ‘অয়েল পুলিং’ অত্যন্ত প্রাচীন ও কার্যকরী একটি পদ্ধতি। এটি মুখ ও জিভের গভীর থেকে টক্সিন এবং ব্যাকটেরিয়া বের করে আনে।
ব্যবহারের নিয়ম: ১ চামচ খাঁটি নারকেল তেল মুখে নিয়ে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট মুখের চারপাশে ভালো করে ঘোরান (গিলে ফেলবেন না)। এরপর তা ফেলে দিয়ে হালকা গরম জল দিয়ে কুলকুচি করে নিন।
৪. হলুদে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘কারকিউমিন’, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণসম্পন্ন। এটি জিভের সাদা আস্তরণ বা ফাঙ্গাস দ্রুত নির্মূল করে।
ব্যবহারের নিয়ম: কাঁচা হলুদ বাটা বা বিশুদ্ধ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে জিভে ১ মিনিট মাখিয়ে রাখুন। এরপর টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।
৫. অ্যালোভেরায় রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, যা মুখের ভেতরের সংবেদনশীল টিস্যু সুস্থ রাখতে এবং জিভের দাগ দূর করতে দারুণ কাজ করে।
ব্যবহারের নিয়ম: ১ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জুস মুখে নিয়ে ১-২ মিনিট রেখে ফেলে দিন এবং সাধারণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
সাধারণত সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ঘরোয়া উপায়ে জিভের এই সাদা আস্তরণ ৩-৪ দিনের মধ্যে গায়েব হয়ে যায়। তবে যদি এই সাদা ছোপগুলো বেশ পুরু হয়, ছাড়ে না এবং এর সঙ্গে মুখে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকে, তবে তা ‘ওরাল থ্রাশ’ (Oral Thrush) বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।