
বর্ষার মরশুম মানেই ভোজনরসিক বাঙালির পাতে রুপোলি শস্য ইলিশের আগমন। ইলিশ পছন্দ করেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। তবে এই মাছ কেন্দ্র করে বাঙালির পছন্দ আবার দু’ভাগে বিভক্ত— এক দল ভালোবাসেন তেল-ঝাল-ঝোলে ভরা ইলিশের স্বাদ ও চর্বিযুক্ত পেটি, তো অন্য দলের দুর্বলতা লালচে ইলিশের ডিমে।
বাজারে গিয়ে প্রায়শই আমাদের মাছ বিক্রেতার মুখের কথার ওপর ভরসা করতে হয়। অনেক সময় ডিম ছাড়া মাছ কিনতে গিয়ে কাটার পর দেখা যায় পেট ভরা ডিম, আবার ডিমওয়ালা মাছ ভেবে কিনে বাড়িতে এনে হতাশ হতে হয়। কিন্তু মাছের গায়ে বঁটি বা ছুরি ছোঁয়ানোর আগেই চেহারা দেখে বুঝে নেওয়া সম্ভব যে পেটে ডিম রয়েছে কি না।
কী সেই উপায়?
ডিম ভর্তি ইলিশের পেট সবসময় বেশ চওড়া, গোলাকার ও নিচের দিকে ফোলা হয়। মাছটির পাশ থেকে দেখলে মনে হবে পেটের অংশটি ঝুলন্ত বা ভারী। অন্যদিকে, যে ইলিশের পেটে ডিম নেই বা কম, তার শরীর মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত বেশ চ্যাপ্টা এবং অনেকটা চাবুকের মতো ছিপছিপে হয়।
মাছ হাতে নিয়ে পেটের অংশে হালকা বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন। পেট যদি বেশ শক্ত, টানটান ও মসৃণ লাগে, তবে বুঝবেন সেটি ডিম ছাড়া তেলযুক্ত ইলিশ। আর পেটের অংশটি যদি সামান্য নরম, ভরাট ও তুলতুলে মনে হয়, তবে তার ভেতরে ডিম থাকার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।
যে মাছের পেটে ডিম থাকে, তার দেহের মাঝের অংশটি অতিরিক্ত ফুলে যায়। এর ফলে মাছটির মাথার তুলনায় পেটকে অস্বাভাবিক রকম বড় দেখায়। সাধারণ ইলিশের ক্ষেত্রে মাথা, পেট ও লেজের মধ্যে একটি সুষম ও স্বাভাবিক সামঞ্জস্য থাকে।
ইলিশ মাছের পেটের নিচের দিকে অর্থাৎ লেজের কাছাকাছি মলদ্বারের অংশটি খেয়াল করুন। মাছের পেটে ডিম পরিপক্ব বা ভর্তি থাকলে ওই অংশটি সামান্য ফোলা ও হালকা লালচে বা গোলাপি রঙের দেখায়।
ডিমওয়ালা মাছের লেজের দিকের অংশ পেটের তুলনায় হঠাৎ বেশি সরু মনে হতে পারে। কারণ ডিমের সমস্ত ভার পেটের মধ্যভাগেই সঞ্চিত থাকে।
ইলিশের পেটে ডিম এসে গেলে মাছের গায়ের চর্বি বা তেল কমে যায়, কারণ মাছের সমস্ত পুষ্টি ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাই আপনি যদি নরম ও তেলযুক্ত ইলিশের স্বাদ পেতে চান, তবে চ্যাপ্টা ও টানটান পেটের ইলিশ বাছুন। আর যদি আপনার পছন্দ ‘ইলিশের ডিম’, তবে ওপরের টোটকাগুলো মিলিয়ে কিনে ফেলুন ফোলা পেটের রুপোলি ইলিশ!