
অতিরিক্ত লঙ্কা বা ঝাল খেয়ে ফেললে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়ার উপক্রম হয়। জিভে যেন আগুন জ্বলে ওঠে! এমন মুহূর্তে তড়িঘড়ি চিনি,মধু বা মিষ্টির খোঁজ করা আমাদের পুরনো অভ্যাস। কিন্তু ঘরে যদি মিষ্টি বা চিনি না থাকে? কিংবা আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হন, তাহলে?
চিন্তার কোনও কারণ নেই। রান্নাঘরে থাকা একটি সহজ জিনিস এক চুমুক পান করলেই বা গিলে ফেললেই মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে জিভের সেই অসহ্য জ্বালাপোড়া। লঙ্কার তীব্রতার জন্য দায়ী ‘ক্যাপসাইসিন’ (Capsaicin) নামক রাসায়নিক যৌগ। মিষ্টি ছাড়াও কয়েকটি অতিসাধারণ ঘরোয়া উপায়ে একে নিমেষে গায়েব করে দেওয়া সম্ভব তীব্র ঝাল।
ঝাল লাগার সঙ্গে সঙ্গে এক ঢোক ঠান্ডা দুধ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে গিলে ফেলুন অথবা এক চামচ টক দই বা মাখন খেয়ে নিন। দুধে ‘কেসিন’ (Casein) নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। এই কেসিন প্রোটিন জিভে আটকে থাকা ক্যাপসাইসিনকে ভেঙে ফেলে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঝালের প্রভাব একদম মুছে দেয়।
মুখে এক টুকরো শুকনো পাউরুটি, এক গাল সেদ্ধ ভাত বা এক টুকরো সেদ্ধ আলু নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে গিলে ফেলুন। কার্বোহাইড্রেট বা স্টার্চ জাতীয় এই খাবারগুলো জিভের ওপর চেপে বসে ক্যাপসাইসিনকে শুষে নেয় এবং স্নায়ুকে আরাম দেয়।
ক্যাপসাইসিন তেল ও চর্বিতে দ্রবণীয় (Fat-soluble)। তাই ঝাল লাগলে এক চামচ খাঁটি ঘি বা মাখন মুখে দিয়ে গিলে ফেললে তা দ্রুত জিভের ওপর থেকে ঝালের প্রলেপ তুলে নিয়ে জ্বালাপোড়া কমায়।
লেবু বা টমেটোর মতো অ্যাসিডিক খাবার ক্যাপসাইসিনের ক্ষারীয় প্রভাবকে প্রাকৃতিকভাবে প্রশমিত (Neutralize) করে। ঝাল লাগলে এক টুকরো লেবু চুষলে বা টমেটো খেলে দ্রুত স্বস্তি মেলে।
শসায় প্রচুর পরিমাণে জল ও প্রাকৃতিক ঠান্ডা ভাব থাকে, যা ঝাল লাগার পর জিভের উত্তেজিত স্নায়ুগুলোকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
ঝাল লাগলে সাধারণ মানুষের প্রথম প্রবণতাই থাকে গ্লাস ভর্তি ঠান্ডা জল খাওয়া। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এটি সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ ক্যাপসাইসিন জলে দ্রবীভূত হয় না। ফলে জল খেলে ঝাল কমার বদলে তা পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং জ্বলুনি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই জল না খেয়ে দুগ্ধজাত বস্তু বা স্টার্চ জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি।