
ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া এবং মারাত্মক দূষণের কারণে আজকাল কমবয়সিদের মধ্যেও চুল পড়ার সমস্যা ব্যাপক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে অনেকেরই মাথার সামনের অংশ বা কপালের দুই পাশ থেকে চুল ফাঁকা হতে শুরু করে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে চেনা সিঁথি চওড়া হওয়া কিংবা কপাল বড় দেখানোর এই দুশ্চিন্তা কমবেশি প্রায় সবারই। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতারাতি জাদুকরী কোনও উপায়ে চুল গজানো সম্ভব না হলেও, স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ঘুমন্ত ফোলিকলকে উদ্দীপিত করলে খুব দ্রুত নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
মাথার সামনের ফাঁকা অংশ আবার আগের মতো চুলে ভরিয়ে তুলতে কোন কোন ঘরোয়া পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, দেখে নিন এক নজরে—
১. পেঁয়াজের রসে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা মাথার ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত কার্যকর।
২ চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল এবং ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। একটি তুলোর সাহায্যে কেবল মাথার সামনের ফাঁকা অংশে ভালো করে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে দ্রুত তফাৎ চোখে পড়বে।
২. গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল চুল গজানোর ওষুধের (মিনোক্সিডিল) মতোই সমান কার্যকর। এটি স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
তাজা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ৪-৫ ফোটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মাথার ফাঁকা অংশে ম্যাসেজ করে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
৩. মেথিতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড, যা চুলকে মূল থেকে শক্ত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
১ চামচ মেথি ও ১ চামচ কালজিরে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে নিন। এই পেস্টটি সামনের স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
আঙুলের মাথা দিয়ে প্রতিদিন রাতে শোওয়ার আগে ৫-১০ মিনিট মাথার সামনের অংশে হালকা হাতে সার্কুলার মোশনে মাসাজ করুন। এতে মাথার ত্বকে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
চ্যাপ্টা বা ফাঁকা চুলে পুষ্টি জোগাতে ডাল, ডিম, পালং শাক, বাদাম ও দই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।
ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া সবচেয়ে নরম থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ানো বা শক্ত করে বাঁধা থেকে বিরত থাকুন।