
জন্মাষ্টমী (Janmashtami) মানেই গোপালের ভোগে চাই তালের বড়া, ক্ষীর কিংবা মুচমুচে ফুলুরি। এই সময়ে বাজারে গেলেই চারিদিকে পাকা তাল (Palm Fruit)-এর মেলা চোখে পড়ে। তবে বাজার থেকে অনেক উৎসাহ নিয়ে তাল কিনে এনে রস বের করার পর যদি দেখা যায় সেটা তেঁতো, তবে পুজোর ভোগের সব আনন্দই মাটি হয়ে যায়। উপর থেকে সব তাল দেখতে একই রকম লাগলেও, কোনটা গাছ-পাকা মিষ্টি আর কোনটা কষাটে, তা বোঝা কিন্তু খুব একটা কঠিন নয়। বাজারে যাওয়ার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
তাল ভালো না খারাপ কীভাবে বুঝবেন?
রং দেখে ভুল করবেন না: অনেকেই ভাবেন লালচে বা হলুদ রঙের তাল বেশি মিষ্টি হয়। এই ধারণা একদম ভুল। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভালো ও গাছ-পাকা মিষ্টি তালের গায়ের রং হয় কুচকুচে ঘন কালো। গায়ে লালচে আভা থাকলে বুঝবেন সেটি পুরো পাকেনি বা পাকার আগেই গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই সবসময় গাঢ় কালো রঙের তাল বাছুন।
আকার নয়, ওজন দেখুন: বাইরে থেকে মস্ত বড় তাল দেখলেই কিনতে যাবেন না। মিষ্টি তালের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে তার ওজনে। তাল আকারে ছোট বা মাঝারি হলেও হাতে নিয়ে যদি ভারী মনে হয়, তবে জানবেন ভেতরে রস ও শাঁস ভরপুর রয়েছে। তাল গোলগাল হলে এবং গায়ে সুতোর মতো সাদা দাগ থাকলে তা মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বোঁটার সুবাস খেয়াল করুন: খাঁটি পাকা তালের সুন্দর গন্ধই তার আসল প্রমাণ। তালের বোঁটা বা মাথার দিকটা একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন। হালকা চাপ দিতেই বোঁটা যদি আলগা হয়ে খুলে যায়, তবে বুঝবেন তালটি স্বাভাবিক নিয়মেই গাছে পেকেছে। বোঁটার কাছে নাক নিয়ে যদি কোনও মিষ্টি সুবাস না পান কিংবা টক গন্ধ লাগে, তবে সেই তাল না কেনাই ভালো।
তিতকুটে ভাব কাটানোর ফন্দি: যে তালের গা কিছুটা অমসৃণ, তা মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একেবারে তেলতেলে মসৃণ খোসার তাল এড়িয়ে চলুন। তবে কোনও কারণে রস তেঁতো বেরোলেও চিন্তা নেই। রসে সামান্য নুন ও জল মিশিয়ে পাতলা সুতির কাপড়ে ১-২ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখলেই তিতকুটে জল ঝরে গিয়ে রস একদম খাওয়ার উপযোগী ও মিষ্টি হয়ে যাবে।