
কচু শাক, ওল — অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হলেও অনেকেই এটি খেতে ভয় পান কেবল এক কারণে; খাওয়ার পরেই শুরু হয় গলার ভেতর অস্বস্তিকর চুলকানি বা গলা ধরা। এতদিন ধরে এই সমস্যার একমাত্র পরিচিত সমাধান হিসেবে তেঁতুলের জল বা তেঁতুল খাওয়ার কথা বলা হতো। কিন্তু হাতের কাছে যদি তেঁতুল না থাকে? চিন্তার কিছু নেই! তেঁতুল ছাড়াই এই অসহ্য গলা চুলকানি থেকে নিমিষেই রেহাই পাওয়ার সহজ কিছু বৈজ্ঞানিক ও ঘরোয়া উপায় বাতলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন হয় এই গলা চুলকানি?
বিজ্ঞানীদের মতে, কচু জাতীয় শাক-সবজিতে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ (Calcium Oxalate) নামক অণুবীক্ষণিক সুঁচের মতো সূক্ষ্ম স্ফটিক থাকে। এটি মুখে বা গলায় প্রবেশ করলে নরম কলায় বিঁধে যায়, যা থেকে তীব্র অস্বস্তি ও খসখসে ভাব তৈরি হয়। অ্যাসিড বা অম্লজাতীয় উপাদান এই স্ফটিকগুলোকে ভেঙে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।
ভিনেগার বা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: ঘরে রান্নার ভিনেগার থাকলে এক গ্লাস উষ্ণ জলে এক চা চামচ ভিনেগার মিশিয়ে কুলকুচি বা সামান্য পান করুন। এতেও দ্রুত মিলবে স্বস্তি।
মধু ও ঘিয়ের মিশ্রণ: গলার আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ১ চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ঘি বা সামান্য গরম জল মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। মধু গলার ভেতরের সূক্ষ্ম ক্ষত ও খসখসে ভাব কমায়।
এক টুকরো গুড় বা মিছরি: লেবুও যদি না থাকে, তবে এক টুকরো গুড় বা মিছরি মুখে পুরে দিন। গুড় গলার ভেতরে একটি পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি করে এবং লালা নিঃসরন বাড়িয়ে অস্বস্তি দূর করে।
পরবর্তীতে যাতে এমন সমস্যায় না পড়তে হয়, তার জন্য কচু কাটার পর ভালো করে নুন-হলুদ জলে ভাপিয়ে সেই জল ফেলে দেওয়া উচিত। এছাড়া কচুর যেকোনও পদ রান্নার সময় কিছুটা লেবুর রস, আমচুর পাউডার বা দই ব্যবহার করলে রান্নার সময়েই ক্ষতিকর অক্সালেট নষ্ট হয়ে যায়।