
রান্নাঘরে দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় পাত্রের দিকে নজর সরালেই বাঁধ সাধে বিপত্তি। সামান্য চোখের আড়াল হলেই উথলে উঠে উনুন নোংরা হয়ে যায়, আর দুধ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রায় প্রতিটি গৃহস্থালিতেই প্রতিদিনের এই চেনা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে রান্নাঘরের কয়েকটি অতি সাধারণ নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে চললে দুধ উথলে পড়ে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক দুধ ফোটানোর সময় কী কী সহজ ঘরোয়া টোটকা মেনে চললে দুধ পাত্রের বাইরে উপচে পড়বে না।
দুধ ফুটতে দেওয়ার সময় পাত্রের ওপর আড়াআড়িভাবে একটি পরিষ্কার কাঠের হাতা বা খুন্তি রেখে দিন। দুধ ফুটে যখন ওপরের দিকে উঠতে শুরু করবে, তখন সেই কাঠের হাতাটি বাষ্পের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবে এবং ফেনা পাত্রের কানায় পৌঁছনোর আগেই ভেঙে যাবে। ফলে দুধ উথলে পড়ার সম্ভাবনা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়।
যে পাত্রে দুধ ফোটাবেন, সেটির ওপরের ভিতরের ধার ঘেঁষে সামান্য ঘি, মাখন বা রান্নার তেল আঙুল দিয়ে ভালোভাবে বুলিয়ে দিন। তেল বা চর্বিযুক্ত পদার্থ জলের সঙ্গে মেশে না। তাই দুধ যখন ফুটে ওপরের দিকে উঠতে যাবে, তখন এই তেল বা ঘিয়ের আস্তরণ দুধের ফেনাকে বাইরের দিকে উপচে পড়তে বাধা দেবে।
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই পাত্রে দুধ বসিয়ে উনুনের আঁচ বাড়িয়ে দেন। এতে দুধ খুব দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে তীব্র গতিতে ওপরে উঠে আসে। দুধ সর্বদা হালকা বা মাঝারি আঁচে ফোটানো উচিত। এতে দুধ যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি ফোটার গতিও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দুধ ফোটানোর আগে পাত্রটি সামান্য ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে বা কয়েক ফোঁটা জল পাত্রের নিচে রেখে তার ওপর দুধ ঢালুন। এতে কেবল যে দুধ পাত্রের তলায় লেগে পোড়া যাবে না তা-ই নয়, ফোটানোর সময় তাপও সমানভাবে বণ্টিত হবে, যা দুধকে একদম হঠাৎ করে উথলে উঠতে দেয় না।
দুধ যখন ফুটে একদম কানায় উঠে আসবে, ঠিক সেই মুহূর্তে সামান্য ঠান্ডা জল ছিটিয়ে দিন। ঠান্ডা জলের স্পর্শে দুধের তাপমাত্রা মুহূর্তেই কমে যায় এবং ফেনা দ্রুত নিচে নেমে যায়।