
বর্ষাকালে বাজারে সবুজ শাকসবজির রকমারি পসরা দেখা গেলেও, তা খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন খাদ্য নিরাপত্তা চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এই সময়ে পালং, কলমি, পুঁই বা লালশাকের পাতা ও কান্ডের ভাঁজে নানা ধরনের অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া, পোকা এবং ছোট ছোট কৃমির ডিম আটকে থাকে। অসাবধানতাবশত এই পোকা পেটে গেলে পেটের মারাত্নক সংক্রমণ, ফুড পয়জনিং এমনকী, জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই বর্ষায় শাক বাজার থেকে এনে সোজা কড়াইতে না তুলে, রান্নার আগে বিশেষ কিছু উপায়ে তা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি। নিচে রইল সহজ ও কার্যকরী কিছু উপায়—
শাক বাজার থেকে আনার পর শুরুতেই ধুয়ে ফেলবেন না। আগে আটি খুলে পচা, হলুদ হয়ে যাওয়া বা পোকা খাওয়া পাতাগুলো কেটে বাদ দিন। এরপর পাতার উল্টো পিঠ ও ডাঁটার সন্ধিস্থল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিন, কারণ বিষাক্ত পোকা বা ডিম সাধারণত সেখানেই লুকানো থাকে।
বাটিতে হালকা গরম জল নিয়ে তাতে ২ চা-চামচ নুন মিশিয়ে দিন। এরপর বেছে রাখা শাক এই নুন-জলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। নুন ও ইষদুষ্ণ জলের মিশ্রণে পাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য পোকা মরে ভেসে ওঠে বা আলগা হয়ে যায়।
শাকের গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক কীটনাশক দূর করতে ১ লিটার জলে ১ কাপ সাদা ভিনেগার বা ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে শাক কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে শাকে থাকা জীবাণু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়।
নুন বা ভিনেগারের জলে ভিজিয়ে রাখার পর শাকগুলো জল থেকে তুলে খোলা ট্যাপের নিচে বা বড় পাত্রে ঠান্ডা জলে ৩ থেকে ৪ বার ভালো করে ধুয়ে নিন। প্রতিবার পাত্রের জল বদলে নেওয়া জরুরি, যাতে অবশিষ্ট নোংরা বা পোকা নিচে তলিয়ে যায়।
ধোয়ার পর জল ঝরানোর ছাঁকনিতে রেখে শাকের অতিরিক্ত জল সম্পূর্ণ ঝরিয়ে নিন। রান্না করার সময় হালকা ভাজা বা আধসেদ্ধ না করে, ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিন। উচ্চ তাপে রান্না করলে অবশিষ্ট জীবাণুও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।