
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই প্রযুক্তি-নির্ভর। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপ— সর্বত্রই আমাদের ফোন নম্বর জড়িয়ে রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই হ্যাকার এবং সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আপনার ১০ অঙ্কের এই মোবাইল নম্বরটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি মাত্র ফোন নম্বর হাতে পেলেই আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে পারে অপরাধীরা।
ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC)-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতারণার জন্য ফোন কল এবং টেক্সট মেসেজকে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার করা হচ্ছে। শুধুমাত্র ফোন ও টেক্সট স্ক্যামের কারণে সাধারণ মানুষ কোটি কোটি টাকা হারাচ্ছেন। ফ্যামিলি অনলাইন সেফটি সংস্থা ‘অরা’ (Aura)-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হরি রবিচন্দ্রন সতর্ক করে বলেছেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কোনও হ্যাকারের পক্ষে আপনার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনা অত্যন্ত সহজ।”
একটি ফোন নম্বর দিয়ে অপরাধীরা কী কী করতে পারে?
সবচেয়ে সাধারণ এবং কম ক্ষতিকারক পরিস্থিতি হলো, আপনার নম্বরটি বিভিন্ন ডেটা কোম্পানির কাছে চলে যাবে এবং আপনার ফোনে অনবরত স্প্যাম কল বা বিজ্ঞাপনের বন্যা বয়ে যাবে। কিন্তু নম্বরটি যদি কোনও পেশাদার স্ক্যামারের হাতে পড়ে, তবে বিপদ হতে পারে মারাত্মক।
ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি (Data Aggregation): আপনার ফোন নম্বরের সূত্র ধরে হ্যাকাররা ইন্টারনেট ঘেঁটে আপনার নাম, ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আপনার একটি সম্পূর্ণ প্রোফাইল তৈরি করে ফেলতে পারে।
আর্থিক জালিয়াতি: ওটিপি (OTP) বাইপাস করা বা সিম সোয়াপিং (SIM Swapping)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিতে পারে অপরাধীরা।
ব্ল্যাকমেইল ও পরিচয় চুরি (Identity Theft): আপনার নম্বর ব্যবহার করে আপনার পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়া বা আপনাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া আপনার নামে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে অন্য কোথাও অপরাধমূলক কাজও করা হতে পারে।
আজকাল হোয়াটসঅ্যাপ বা সাধারণ মেসেজে অচেনা নম্বর থেকে “হাই, কেমন আছ?” কিংবা ব্যাংকের নাম করে বা চাকুরির লোভনীয় অফার দিয়ে মেসেজ আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই মেসেজগুলোকে নিরীহ মনে হলেও, এর একটির উত্তর দিলেই আপনি জড়িয়ে পড়তে পারেন আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের সাথে।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
১) অচেনা মেসেজে সাড়া দেবেন না: কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে আসা মেসেজ সন্দেহজনক মনে হলে তার রিপ্লাই দেবেন না।
২) টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): আপনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ওটিপি-র পাশাপাশি অ্যাপ-ভিত্তিক টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
৩) যেকোনো শপিং মল বা সাধারণ লটারির কুপনে যেখানে-সেখানে নিজের আসল ফোন নম্বর দেওয়া বন্ধ করুন।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সামান্য অসচেতনতাই বড়সড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই ফোন নম্বর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আজই আরও সতর্ক হোন।