
প্রতিদিনের কথাবার্তা বা বাজারে কেনাকাটার সময় ইংরেজি শব্দের ব্যবহার এখন অত্যন্ত সাধারণ। আলুকে ‘পটেটো’, টমেটোকে ‘টমেটো’ কিংবা গাজরকে ‘ক্যারেট’ বলতে আমরা সবাই কমবেশি অভ্যস্ত। কিন্তু হেঁশেলের অত্যন্ত পরিচিত ও অতি পুষ্টিকর সবজি ‘মূলো’র সঠিক ইংরেজি নাম বলতে গেলে অনেকেই বেশ দ্বিধায় পড়েন।
মূলোর ইংরেজি নাম হলো ‘র্যাডিশ’ (Radish)। প্রাচীন লাতিন শব্দ ‘রেডিক্স’ (Radix) থেকে এসেছে এই শব্দটি, যার আক্ষরিক অর্থ ‘মূল’ বা শিকড়। শীতকাল এলেই বাঙালির হেঁশেলে মূলোর কদর একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। কাঁচা সালাদে কামড় বসানো থেকে শুরু করে ধোঁয়া ওঠা মূলোর ঘণ্ট, মুচমুচে মূলোর পরোটা কিংবা পাতলা ডালে মূলোর ব্যবহার বাঙালি রন্ধনশৈলীর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেকে আবার মুলিও বলে থাকেন।
কেবল স্বাদের দিক থেকেই নয়, স্বাস্থ্য উপকারিতার বিচারেও ‘র্যাডিশ’ অত্যন্ত গুণকারী একটি সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফলিক অ্যাসিড এবং পটাশিয়াম। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান—উভয় শাস্ত্রেই মূলোর ভূমিকা দারুণ। বিশেষ করে হজমশক্তি বাড়াতে, লিভার ও পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা উন্নত করতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) বের করে দিতে মূলোর জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও চিকিৎসকেরা ডায়েটে মূলো রাখার পরামর্শ দেন।
সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করা, বিদেশি কোনও রেসিপি পড়া কিংবা পুষ্টি সংক্রান্ত আলোচনা—সব ক্ষেত্রেই ‘র্যাডিশ’ শব্দটির সঠিক ব্যবহার জানা থাকা প্রয়োজন। চারপাশের চেনা সবজির সঠিক পরিচিতি যেমন আমাদের খাদ্যাভ্যাসকে সচেতন করে তোলে, তেমনই এর সঠিক ভাষার চর্চা নিত্যদিনের ভাব বিনিময়ে বাড়ায় আত্মবিশ্বাস।