
বাড়িতে উৎসব-অনুষ্ঠান, অতিথির আগমন কিংবা ছুটির দিনের বিশেষ খাওয়া-দাওয়া মানেই মেনুতে ফ্রায়েড রাইস। আর ফ্রায়েড রাইস বানাতে গেলে সাধারণত লম্বাদানা বাসমতি চালকেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বাসমতি চালের চড়া দাম কিংবা হঠাৎ ঘরে বাসমতি না থাকার কারণে অনেক সময় স্বাদপূরণে ভাঁটা পড়ে।
তবে আপনার হেঁশেলে যদি সাধারণ সরু ‘বাঁশকাঠি’ চাল থাকে, তবে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই! বাসমতির দোহাই না দিয়ে এই বাঁশকাঠি চাল দিয়েই বানিয়ে ফেলা সম্ভব একদম রেস্তোরাঁ স্টাইলের গন্ধে-স্বাদে অতুলনীয় এবং ঝরঝরে ফ্রায়েড রাইস।
অনেকেরই অভিযোগ থাকে, বাসমতি ছাড়া অন্য চালে ফ্রায়েড রাইস বানাতে গেলে ভাত গলে যায় বা চটচটে হয়ে দলা পাকিয়ে যায়। তবে চালের জাতের চেয়েও বড় কথা হল চাল ফোটানো এবং রান্নার আগের প্রস্তুতির কৌশল
বাঁশকাঠি চাল রান্নার আগে অন্তত ৪-৫ বার জল বদলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, যতক্ষণ না ঘোলা জল পরিষ্কার হয়ে আসছে। চালের অতিরিক্ত স্টার্চ বা মাড় ধুয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। এরপর অন্তত ২০-৩০ মিনিট পরিষ্কার জলে চাল ভিজিয়ে রাখুন।
হাঁড়িতে জল ফুটতে শুরু করলে তাতে ১ চামচ সাদা তেল, পরিমাণমতো নুন এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস (বা ভিনেগার) দিন। তেল দিলে চালের দানাগুলো গায়ে গায়ে লেগে যাবে না, আর লেবুর রস ভাতকে রাখবে একদম ধবধবে সাদা ও ঝরঝরে।
বাঁশকাঠি চাল দ্রুত সেদ্ধ হয়ে যায়, তাই চাল ফোটার দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। চাল যখন ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ সেদ্ধ হবে (অর্থাৎ চাল চাপ দিলে ভেতরে সামান্য শক্ত ভাব থাকবে), তখনই দ্রুত মাড় ঝরিয়ে নিতে হবে। কোনওভাবেই ১০০% সেদ্ধ করবেন না।
মাড় ঝরানোর পর একটি বড় ছড়ানো থালা বা ট্রে-তে ভাত ছড়িয়ে দিন এবং ফ্যানের তলায় রেখে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এরপর থালাটি অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজের শুষ্ক ঠান্ডা বাতাসে ভাতের আর্দ্রতা কমে যায় এবং চালের দানাগুলো শক্ত ও ঝরঝরে হয়ে ওঠে। ফ্রায়েড রাইস ঝরঝরে করার এটিই সবচেয়ে বড় গোপন টোটকা।
এই সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই বাঁশকাঠি চালের সুস্বাদু ও ঝরঝরে ফ্রায়েড রাইস তৈরি। বাসমতি চালের চড়া খরচ ছাড়াই এখন যখন-তখন আপনার হেঁশেলেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁ মানের ফ্রায়েড রাইস।