
শিবভক্তদের জন্য বছরের সবচেয়ে প্রিয় এবং পবিত্র মাস ‘শ্রাবণ’ আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আর তাই এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাসকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই গোটা মাসটি সম্পূর্ণরূপে দেবতাদেব মহাদেব শিবের আরাধনায় উৎসর্গীকৃত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে নিষ্ঠাভরে দেবাদিদেবের পুজো করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করা যায়। আর এই কারণেই বহু ভক্ত শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগেই কিছু বিশেষ শুভ জিনিস বাড়িতে কিনে আনেন। মনে করা হয়, এই জিনিসগুলি ঘরে রাখলে ভোলেনাথের আশীর্বাদ সর্বদা বজায় থাকে।
১. রুদ্রাক্ষ
শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগে বাড়িতে রুদ্রাক্ষ আনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রুদ্রাক্ষের সঙ্গে ভগবান শিবের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। বাড়িতে রুদ্রাক্ষ স্থাপন করে নিয়মিত তার পুজো করলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে এবং জীবনের নানা জটিল বাধা-বিপত্তি ধীরে ধীরে কেটে যায়। বহু ভক্ত এই মাসে রুদ্রাক্ষ ধারণও করে থাকেন।
২. রুপোর নন্দী মূর্তি
নন্দী হলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং তাঁর প্রধান বাহন। মনে করা হয়, শ্রাবণ মাসের আগে রুপো দিয়ে তৈরি একটি নন্দীর মূর্তি বাড়িতে এনে শিবলিঙ্গের কাছে স্থাপন করলে মহাদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নন্দীর কানে নিজের মনোস্কামনা জানালে এবং নিষ্ঠাভরে তাঁর পুজো করলে ভক্তের সব ইচ্ছে পূরণ হয়।
৩. তামার পাত্র
শ্রাবণ মাসে শিবলিঙ্গে জল ঢালার বা জলাভিষেক করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই মাস শুরু হওয়ার আগেই একটি নতুন তামার পাত্র বা ঘটি কিনে বাড়িতে আনা অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক। শাস্ত্র মতে, তামার পাত্র থেকে শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করলে শুভ ফল পাওয়া যায় এবং মহাদেবের কৃপাদৃষ্টি সর্বদা পরিবারের ওপর বজায় থাকে।
৪. পারদ শিবলিঙ্গ (পারদেশ্বর)
যদি সম্ভব হয়, তবে শ্রাবণ মাস শুরুর আগেই বাড়িতে একটি পারদের শিবলিঙ্গ স্থাপন করতে পারেন। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় শাস্ত্রে পারদ শিবলিঙ্গের পুজোকে অত্যন্ত ফলদায়ী বলা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, প্রতিদিন বিধি মেনে এই শিবলিঙ্গের অভিষেক ও পুজো করলে ঘর সুখে-শান্তিতে ভরে ওঠে এবং পরিবারে সমৃদ্ধি ও বৈভব আসে।