
শ্যাম্পেন ব্রঞ্চ, নামী ব্র্যান্ডের ডিজাইনার পোশাক আর পার্টিতে ঠান্ডা লড়াইয়ের ড্রামা— নেটফ্লিক্সের নতুন রিয়ালিটি শো ‘দেশি ব্লিং’ (Desi Bling)-এ বিনোদনের সব মশলাই মজুত রয়েছে। তবে এই সমস্ত জাঁকজমকের মাঝে শো-এর আসল আকর্ষণ হলো তারকাদের ঘরের ঠিকানা, যা স্বয়ং ‘বুর্জ খলিফা’। দুবাইয়ের ধনকুবেরদের দুনিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বহুতলে একটি নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট থাকা মানে শুধু সম্পত্তি নয়, তা আসলে সামাজিক আভিজাত্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
এই শো-এর অন্যতম চর্চিত দম্পতি হলেন সতীশ সনপাল এবং তাবিন্দা সনপাল। রোলস-রয়েস ও বুগাটি চিরনের মতো বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাইভেট ইয়ট, কোটি কোটি টাকার সোনা ও হিরের গয়না আর বুর্জ খলিফার ভেতরের ফ্ল্যাট— এই নিয়েই তাঁদের প্রাত্যহিক জীবন। সাত পর্বের এই সিরিজটি যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কেন ‘অ্যানাক্স হোল্ডিং’ (ANAX Holding)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সতীশ সনপাল দুবাইয়ের উচ্চবিত্ত সমাজে এতটা প্রভাবশালী।
করণ কুন্দ্রা ও তেজস্বী প্রকাশের মতো জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতিতে এই শো আসলে এক রূপকথার জীবনকে তুলে ধরে। নিচে ল্যাম্বরগিনি, ওপরে জানলা দিয়ে মেঘ ছোঁয়া আকাশ আর ঘরের ভেতরে মার্বেলের চোখধাঁধানো কারুকাজ। আর এই সবকিছুর ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘ফাইনাল বস’-এর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে বুর্জ খলিফা।
বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের দাম কত?
শোনা যায়, বুর্জ খলিফায় ফ্ল্যাট কেনার ক্ষমতা তো দূরের কথা, সেখানকার মাসিক দেখভালের খরচ (Maintenance charges) জোগাতে গেলেই সাধারণ মানুষের ঘাম ছুটে যাবে। দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট পরিষেবা সংস্থা ‘প্রপার্টি ফাইন্ডার’ (Property Finder)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বহুতলের ফ্ল্যাটের আনুমানিক খরচের খতিয়ান নিচে দেওয়া হল,
স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট: ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ এইডি (AED) বা সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩.৪ কোটি থেকে ৫.৭ কোটি টাকা)।
১-বিএইচকে ফ্ল্যাট: ২২ থেকে ৪০ লক্ষ এইডি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি থেকে ৯ কোটি টাকা)।
২-বিএইচকে ফ্ল্যাট: ৪৪ থেকে ৭০ লক্ষ এইডি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি থেকে ১৬ কোটি টাকা)।
৩-বিএইচকে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট: ৮০ লক্ষ থেকে ২ কোটি এইডি বা তারও বেশি।
পেন্টহাউস এবং আরমানি রেসিডেন্স: ৩.৫ কোটি থেকে ১০ কোটি এইডি-র বেশি (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮০ কোটি থেকে ২৩০ কোটি টাকারও বেশি)।
উল্লেখ্য, মূল দামের পাশাপাশি দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ফি, এজেন্টের কমিশন এবং বার্ষিক যে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়, তা দিয়ে অনায়াসেই একটি ছোট বাজেটের সিনেমা তৈরি করে ফেলা সম্ভব।
দুবাইয়ের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট বাজার অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখে। বিশ্বের এই সবচেয়ে দামি ঠিকানায় বিশ্বের বহু নামী ব্যবসায়ী এবং বিনোদন জগতের তারকাদের ফ্ল্যাট রয়েছে।