
ব্যস্ত সকালে ইস্ত্রি করার ঝামেলার কারণে অনেকেই চরম বিপাকে পড়েন। আলমারি থেকে বের করা কুঁচকে যাওয়া জামাকাপড় ইস্ত্রি করার মতো হাতে যদি একদম সময় না থাকে, তবে কেমন হয় যদি ওয়াশিং মেশিন থেকেই জামাকাপড় একদম টানটান আর ইস্ত্রি করা অবস্থায় বের হয়? শুনতেও অবাক লাগলেও, গৃহস্থালির এমনই এক সহজ কৌশল বা ‘হ্যাক’ নিয়ে এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চা চলছে।
কোনও ধরনের ইস্ত্রি বা আয়রন ছাড়াই কীভাবে ওয়াশিং মেশিনে জামাকাপড়ের কুঁচকে যাওয়া ভাব দূর করবেন? উত্তরটি লুকিয়ে রয়েছে আপনার ফ্রিজের বরফের টুকরোয়!
কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি?
সহজ এই উপায়টি মেনে চলা অত্যন্ত সহজ। ওয়াশিং মেশিনের ড্রাইভার বা ড্রায়ার সাইকেলের সময় পোশাক ড্রায়ারে দেওয়ার পর তার মধ্যে কয়েকটি বরফের টুকরো (Ice Cubes) ফেলে দিন। এরপর ড্রায়ার অন করে দিন।
ড্রায়ারের ভেতরের গরম বাতাসের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরফ গলতে শুরু করে এবং মেশিনের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে গরম স্টিম বা বাষ্প তৈরি হয়। এই জলীয় বাষ্প পোশাকের কাপড়ের তন্তুকে শিথিল করে তোলে, যার ফলে কাপড়ের সমস্ত ভাঁজ এবং কুঁচকে যাওয়া ভাব নিমেষেই গলে মেলায়। ড্রায়ার বন্ধ করার পর দেখা যাবে, ইস্ত্রি করার মতোই জামাকাপড় একদম সোজা ও টানটান হয়ে গিয়েছে।
যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেন:
১. অতিরিক্ত পোশাক নয়: এই পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে ওয়াশিং মেশিনে অল্পসংখ্যক জামাকাপড় দিতে হবে। মেশিন একদম ঠাসা জামায় ভর্তি থাকলে স্টিম সঠিকভাবে সব কাপড়ে পৌঁছতে পারবে না।
২. হালকা কাপড়: সুতি বা হালকা কাপড়ের টি-শার্ট, শার্ট ও শর্টসের ক্ষেত্রে এই কৌশল সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে অতিরিক্ত জ্যাকেট বা ভারী কাপড়ের ক্ষেত্রে ড্রায়ারের সময় সামান্য বাড়িয়ে দিতে হতে পারে।
৩. ওয়াশিং মেশিনের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামাকাপড় বের করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে দেওয়া জরুরি। মেশিনের ভেতরে বেশিক্ষণ ফেলে রাখলে আবার কুঁচকে যেতে পারে।
বিদ্যুৎ বাঁচানো থেকে শুরু করে সকালের তাড়াহুড়োয় সময় বাঁচানো—দৈনন্দিন জীবনের এই ছোট্ট কৌশলটি বহু মানুষের কাছেই এখন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। ইস্ত্রির ঝামেলা এড়াতে আপনিও আজই ট্রাই করে দেখতে পারেন এই বরফের ট্রিক!