
সুন্দর ও সুস্থ ত্বক পেতে আমরা হামেশাই বাজার থেকে নানা ধরণের ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার কিংবা সিরাম কিনে থাকি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা বিজ্ঞাপন বা আকর্ষণীয় মোড়ক দেখে প্রসাধন সামগ্রী কিনে ফেলি, যা অনেক সময় ত্বকের গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট কেনার আগে বোতল বা কৌটোর গায়ে লেখা কিছু বিশেষ টার্ম বা নির্দেশিকা ভালো করে দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
‘নন-কমেডোজেনিক’ (Non-comedogenic): আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ (Acne-prone) হয়, তবে এই লেখাটি দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘নন-কমেডোজেনিক’ কথাটির অর্থ হল, এই ক্রিমটি ব্যবহারের ফলে ত্বকের লোমকূপ বা পোরস (Pores) বন্ধ হবে না, যার ফলে ব্রণ কিংবা ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা কম হবে।
‘ব্রড স্পেকট্রাম’ (Broad Spectrum) ও ‘SPF’: সানস্ক্রিন বা ডে-ক্রিম (Day Cream) কেনার সময় অবশ্যই দেখুন সেখানে ‘Broad Spectrum’ লেখা আছে কি না। এর অর্থ হল ক্রিমটি সুর্যের ক্ষতিকর ইউভি-এ (UVA) এবং ইউভি-বি (UVB) দুটি রশ্মি থেকেই ত্বককে সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি দৈনিক ব্যবহারের জন্য অন্তত SPF 30 বা তার বেশি থাকা আবশ্যক।
‘প্যারাবেন-ফ্রি’ এবং ‘সালফেট-ফ্রি’ (Paraben-free & Sulfate-free): কৃত্রিম রাসায়নিক বা প্যারাবেন দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের অ্যালার্জি ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পরিচর্যার জন্য ‘Paraben-Free’ লেখা প্রোডাক্ট বাছুন।
‘ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড’ (Dermatologically Tested): এর মানে হল প্রসাধন সামগ্রীটি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষিত এবং ত্বকের ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। বিশেষ করে সংবেদনশীল বা সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারীদের জন্য এই সিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ (Hypoallergenic): যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সামান্যতেই ফুসকুড়ি বা চুলকানি হয়, তাঁদের জন্য এই ধরনের ক্রিম আদর্শ। এটি ত্বকে অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।
সক্রিয় উপাদান বা Active Ingredients: ক্রিমের পেছনের অংশে কী কী উপাদান রয়েছে, তা খেয়াল করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ‘হাইয়ালুরোনিক অ্যাসিড’ (Hyaluronic Acid) বা ‘গ্লিসারিন’, উজ্জ্বলতার জন্য ‘ভিটামিন সি’ এবং বয়সের ছাপ রোধে ‘রেটিনল’ (Retinol) বা ‘নিয়াসিনামাইড’ (Niacinamide) সমৃদ্ধ উপাদান লেখা আছে কি না দেখে নিন।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসাধনীর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন না দেখে বোতলের গায়ে লেখা উপাদান ও নির্দেশিকা পড়ে কেনাকাটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এমনকী, উপযুক্ত ক্রিম কেনার পরও প্রথমবার মুখে ব্যবহারের আগে কনুই বা হাতের ত্বকে সামান্য লাগিয়ে ‘প্যাচ টেস্ট’ (Patch Test) করে নেওয়া নিরাপদ।