
খাবারের টেবিলে বা কথা বলতে বলতে হঠাৎ তীব্র কাশি এবং দম আটকে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই রয়েছে। প্রচলিত ভাষায় একে বলা হয় ‘বিষম খাওয়া’। সাধারণত গলায় বা শ্বাসনালীতে খাবার বা জল আটকে গেলে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাশির মাধ্যমে তা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে আমরা বেশিরভাগ মানুষই তাড়াহুড়ো করে জল খেতে শুরু করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, তীব্র বিষম লাগার মুহূর্তে তড়িঘড়ি জল খাওয়া একেবারেই অনুচিত; কারণ এতে জল ফুসফুসে বা শ্বাসনালীর আরও গভীরে প্রবেশ করে বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
কেন হয় বিষম?
আমাদের গলায় পরিপাকনালী এবং শ্বাসনালী পাশাপাশি অবস্থান করে। খাবার গেলার সময় ‘এপিগ্লোটিস’ (Epiglottis) নামের একধরনের পাতলা ঢাকনা শ্বাসনালীর মুখটি ঢেকে রাখে, যাতে খাবার সরাসরি খাদ্যনালীতে চলে যায়। কিন্তু খাওয়ার সময় দ্রুত কথা বললে, হাসলে বা মনোযোগ অন্য দিকে থাকলে এই সমন্বয়টি ব্যাহত হয়। ফলে খাবার বা পানীয় ভুল করে শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে এবং শরীর অমনি কাশির মাধ্যমে তা বাইরে বের করার চেষ্টা করে।
বিষম লাগলে জল না খেয়ে কী করবেন?
হঠাৎ তীব্র বিষম লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
জল না খেয়ে কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে জোরজোরে কাশতে থাকুন। কাশির প্রাকৃতিক বাতাসের ধাক্কাতেই শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবারের কণা বাইরে বেরিয়ে আসে।
প্যানিক বা আতঙ্কিত হবেন না। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ার চেষ্টা করুন।
বিষম খাওয়া ব্যক্তিকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়ে দুই কাঁধের মাঝখানের হাড়ের ওপর হাতের তালুর নীচের অংশ দিয়ে হালকা করে ৩-৪ বার ওপরের দিকে ধাক্কা দিয়ে চাপ দিন (Thumps)। এতে আটকে থাকা খাবার দ্রুত আলগা হয়ে যায়।
যদি শ্বাস একেবারে বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় বা কাশি না বের হয়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে দাঁড়িয়ে নিজের দু’হাত দিয়ে তাঁর তলপেটের ওপরের অংশ (পাঁজরের ঠিক নিচে) শক্ত করে চেপে ধরে ভেতরের ও ওপরের দিকে সজোরে ধাক্কা দিন। একে ‘হেমলিচ ম্যানুভার’ বলা হয়, যা অবরুদ্ধ শ্বাসনালী খুলতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
মাথা নামিয়ে রাখার বদলে থুতনি সামান্য ওপরের দিকে তুলে ধরলে শ্বাসনালী সোজা থাকে এবং বাতাস চলাচলের পথ সহজ হয়।
শ্বাসনালী পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর এবং কাশির তীব্রতা কমলে তবেই এক-দুই ঢোক স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল পান করুন। সাধারণ সতর্কতাই এ ধরনের আচমকা দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।