মাথার তালুতে চাটি , ফুঁ বা জল নয়, জানেন বিষম খেলে ঠিক কী কী করা উচিত?

how to stop choking while eating: চিকিৎসকদের মতে, না জেনে করা এই প্রচলিত অভ্যাসগুলো উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। বিষম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবার ভুল পদ্ধতিতে আরও ভেতরে ঢুকে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল, এমনকী, প্রাণঘাতীও করে তুলতে পারে। তাই তালুতে চাটি বা জোর করে জল নয়, বিষম খেলে ঠিক কী কী করা উচিত এবং কোনটা একেবারেই করা উচিত নয়, জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ।

মাথার তালুতে চাটি , ফুঁ বা জল নয়, জানেন বিষম খেলে ঠিক কী কী করা উচিত?

|

Jul 08, 2026 | 7:13 PM

খেতে খেতে হঠাৎ কোনও মজার কথা মনে পড়ে হেসে ওঠা, কিংবা তাড়াহুড়ো করে খাবার গিলতে যাওয়া—আর অমনি মুহূর্তের মধ্যে দম আটকে বিষম খাওয়া! এই ছবিটা কমবেশি প্রতি ঘরেই চেনা। সাধারণত কেউ বিষম খেলে আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় পিঠে বা মাথার তালুতে সজোরে চাটি মারা, ফুঁ দেওয়া কিংবা জোর করে জল খাওয়ানো।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, না জেনে করা এই প্রচলিত অভ্যাসগুলো উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। বিষম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আটকে থাকা খাবার ভুল পদ্ধতিতে আরও ভেতরে ঢুকে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল, এমনকী, প্রাণঘাতীও করে তুলতে পারে। তাই তালুতে চাটি বা জোর করে জল নয়, বিষম খেলে ঠিক কী কী করা উচিত এবং কোনটা একেবারেই করা উচিত নয়, জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ।

কেন মানুষ বিষম খায়?
আমাদের গলায় দুটি নালী পাশাপাশি থাকে—একটি খাদ্যনালী এবং অন্যটি শ্বাসনালী। আমরা যখন খাবার গিলব, তখন ‘এপিগ্লটিস’ (Epiglottis) নামের একটি ছোট পর্দা শ্বাসনালীর মুখটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেয়, যাতে খাবার সরাসরি পাকস্থলীতে যায়। কিন্তু খাবার সময় কথা বললে, হাসলে বা তাড়াহুড়ো করলে অনেক সময় ওই পর্দা ঠিকমতো বন্ধ হয় না। ফলে খাবারের টুকরো বা জলের কণা ভুল করে শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে। আর তখনই শরীর তাকে বের করার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে তীব্র কাশির সৃষ্টি করে, যাকেই আমরা বিষম খাওয়া বলি।

বিষম খেলে তাৎক্ষণিক কী করবেন?
যদি আপনার সামনে কেউ তীব্রভাবে বিষম খান, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত করুন।

বিষম খেলে মানুষের স্বাভাবিকভাবেই কাশি পায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাধা না দিয়ে আরও জোরে জোরে কাশতে বলুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাশির ধাক্কাতেই শ্বাসনালী থেকে আটকে থাকা খাবার বাইরে বেরিয়ে আসে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা দাঁড় করিয়ে বা বসিয়ে না রেখে, শরীরটা কোমরের কাছ থেকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে বলুন। এর ফলে অভিকর্ষের টানে আটকে থাকা বস্তুটির ভেতরের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং কাশির সঙ্গে সেটি সহজে বেরিয়ে আসে।

যদি কাশির পরেও দম আটকে আসে, তবে রোগীকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়ে আপনার হাতের তালুর গোড়ার অংশ (Heel of the hand) দিয়ে তাঁর পিঠের ঠিক মাঝে, দুই কাঁধের হাড়ের মধ্যবর্তী অংশে পর পর ৫ বার ওপরের দিকে ধাক্কা দেওয়ার মতো করে থাপ্পড় মারুন।

যদি এই সমস্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করার পরেও আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট না কমে, ঠোঁট বা নখ নীলচে হতে শুরু করে কিংবা তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তবে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

Follow Us