Vishwakarma Puja: জানেন বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ঘুড়ি ওড়ানো হয়?

Kite Flying: পুজোর সঙ্গে আরাধনার পাশাপাশি যে আনন্দ উৎসবটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তা হল ঘুড়ি ওড়ানো। বিশেষ করে বাংলা ও আশপাশের অঞ্চলে এদিন সকাল থেকেই নীল আকাশে ডানা মেলে হরেক রঙের, হরেক আকারের ঘুড়ি। ‘ভো কাট্টা’র চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পাড়ার ছাদ থেকে মাঠ-ঘাট।

Vishwakarma Puja: জানেন বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ঘুড়ি ওড়ানো হয়?

|

Sep 16, 2026 | 8:02 PM

ভাদ্র সংক্রান্তি মানেই শরতের আগমনী সুর এবং শিল্প ও স্থাপত্যের দেবতা দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা। কারখানা থেকে শুরু করে গ্যারেজ, কাজের টেবিল থেকে আইটি অফিস—সমস্ত কর্মস্থলে এদিন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির পুজো করা হয়। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে আরাধনার পাশাপাশি যে আনন্দ উৎসবটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তা হল ঘুড়ি ওড়ানো। বিশেষ করে বাংলা ও আশপাশের অঞ্চলে এদিন সকাল থেকেই নীল আকাশে ডানা মেলে হরেক রঙের, হরেক আকারের ঘুড়ি। ‘ভো কাট্টা’র চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পাড়ার ছাদ থেকে মাঠ-ঘাট। কিন্তু প্রশ্ন হল, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর এই রেওয়াজ এল কীভাবে?

পুরাণে রয়েছে, ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন সৃষ্টি, কারিগরি এবং স্থাপত্যের রূপকার। তিনি নির্মাণ করেছিলেন দেবতাদের রথ ও উড়ন্ত বিমান (যেমন পুষ্পক রথ)। প্রাচীন যুগে ঘুড়ি তৈরি করাও ছিল এক অদ্ভুত কারিগরি দক্ষতার নিদর্শন। হালকা বাঁশের কঞ্চি, পাতলা কাগজ এবং নিখুঁত সুতো বেঁধে বাতাসের গতি মেপে ঘুড়ি ওড়ানো এক প্রকারের পদার্থবিদ্যা এবং কারিগরি কৌশল। তাই দেবশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কারিগরি বিদ্যাকে উদযাপন করার প্রতীক হিসেবেও ঘুড়ি ওড়ানোকে দেখা হয়।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮ শতকে বাংলা তথা কলকাতার রাজপরিবার এবং জমিদারদের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রাজা নবকৃষ্ণ দেব থেকে শুরু করে পরবর্তীতে লখনউয়ের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের কলকাতায় আগমনের পর এই ঘুড়ি ওড়ানোর শখ আরও ব্যাপ্তি পায়। কারিগর ও শ্রমিকদের ছুটির দিন হওয়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটিতেই সবাই ছাদে জড়ো হয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতেন, যা কালক্রমে এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

 

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us