
জল ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো মাটির কলসি। কলসির গায়ে থাকা হাজার হাজার সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে জল চুঁইয়ে বাইরে আসে এবং বাষ্পীভূত হয়, যা কলসির ভেতরের জলকে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা রাখে।

কাচ বা স্টিলের বোতলে জল ভরে তার গায়ে একটি মোটা সুতির কাপড় বা চটের বস্তা ভিজিয়ে জড়িয়ে রাখুন। কাপড়টি শুকিয়ে গেলে আবার জল দিন। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় বোতলের জল দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকবে।

জলভর্তি পাত্রটি ঘরের এমন কোণে রাখুন যেখানে সরাসরি রোদ পড়ে না এবং পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচল করে। জানলার পাশে বা বারান্দার ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখলে জল প্রাকৃতিকভাবেই শীতল থাকে।

একটি বড় গামলায় মোটা স্তরে বালি বিছিয়ে তাতে জল দিয়ে ভিজিয়ে দিন। এবার সেই ভেজা বালির ওপর মাটির কলসি বা জলের বোতল বসিয়ে রাখুন। বালি শুকোতে দেবেন না; এটি ফ্রিজের মতো কাজ করবে।

তামার পাত্রে জল রাখলে তা কেবল স্বাস্থ্যকরই নয়, বরং মাটির কাছাকাছি তাপমাত্রায় জলকে শীতল রাখতেও সাহায্য করে। তামা তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় এটি বাইরের তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।

জলের বোতলটি ভেজা তোয়ালে বা গামছা দিয়ে মুড়িয়ে ফ্যানের ঠিক নিচে রাখুন। ফ্যানের হাওয়ায় কাপড় থেকে জল বাষ্পীভূত হবে এবং বোতলের উষ্ণতা কেড়ে নিয়ে জলকে ঠান্ডা করে তুলবে।

যদি সম্ভব হয়, বাড়ির উঠোনে বা বাগানে গর্ত করে সেখানে বালির স্তর দিয়ে জলভর্তি কলসি রাখা যেতে পারে। মাটির নিচের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে কম থাকায় জল দীর্ঘক্ষণ শীতল থাকে।

শুকনো খড় বা কুটে দিয়ে জলের পাত্রটি ঘিরে রাখলে তা ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। এটি বাইরের গরম বাতাসকে পাত্রের সংস্পর্শে আসতে দেয় না, ফলে জলের তাপমাত্রা সহজে বাড়ে না।