
চুল পড়া কমানো এবং নতুন চুল গজানোর জন্য ইদানীং ‘রোজমেরি ওয়াটার’ (Rosemary Water) দারুণ জনপ্রিয়। তবে সঠিক নিয়ম না জানলে আশানুরূপ ফল মিলবে না।

তাজা বা শুকানো রোজমেরি পাতা ফুটিয়ে জল তৈরি করুন। জল ফুটে যখন অর্ধেক হয়ে যাবে এবং এর রঙ হালকা লালচে-বাদামী হবে, তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন।

চুলের দৈর্ঘ্যে নয়, রোজমেরি ওয়াটার আসল কাজ করে চুলের গোড়ায়। চুল ভাগ করে সরাসরি স্ক্যাল্পে বা মাথার ত্বকে স্প্রে করুন, যাতে এটি রোমকূপের গভীরে পৌঁছাতে পারে।

স্প্রে করার পর আঙুলের ডগা দিয়ে (নখ দিয়ে নয়) অন্তত ৫-১০ মিনিট হালকা হাতে সার্কুলার মোশনে মাথা মাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং চুলের ফলিকল উদ্দীপিত হবে।

মাথায় অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি বা ময়লা থাকলে রোজমেরি ওয়াটার ত্বকের ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাই শ্যাম্পু করার পর পরিষ্কার চুলে এটি ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।

রোজমেরি ওয়াটার ব্যবহারের পর চুল চটচটে বা আঠালো হয় না। তাই এটি স্প্রে করার পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার কোনও প্রয়োজন নেই। এটিকে ন্যাচারাল ‘লিভ-ইন টোনার’ হিসেবে চুলে শুকিয়ে যেতে দিন।

ম্যাজিকের মতো রাতারাতি চুল গজানো সম্ভব নয়। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন এটি নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। ধৈর্য ধরে ৩-৪ মাস ব্যবহার করলে তবেই পরিবর্তন চোখে পড়বে।

বাড়িতে তৈরি রোজমেরি ওয়াটার কোনও প্রিজারভেটিভ ছাড়া বেশিদিন ভালো থাকে না। তাই একবারে বেশি না বানিয়ে, অল্প করে বানান এবং ড্রপার বা স্প্রে বোতলটি ফ্রিজে রাখুন। সর্বোচ্চ ৭-১০ দিন পর্যন্ত এটি ব্যবহারযোগ্য। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বক সমান নয়। তাই প্রথমবার পুরো মাথায় ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতের ত্বকে সামান্য স্প্রে করে দেখে নিন কোনও অ্যালার্জি, চুলকানি বা র্যাশ হচ্ছে কিনা।