
বাঙালির বাড়িতে পুজো প্রতি মাসে প্রায় লেগেই থাকে। কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও পূর্ণিমার পুজো আবার কখনও লক্ষ্মীপুজো পালিত হয়ে থাকে। আর প্রতিটি পুজোয় প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা একটি নিয়ম ও রীতি। এমনকি যে কোনও উপবাস ও উত্সবের সময়ও পুজো করা হয়। তেল বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো ছাড়া যে কোনও শুভকাজ ও পুজো অসম্পূর্ণ থাকে।

সনাতন ধর্মে এমন কোনও পুজো ও শুভ কাজ নেই, যেখানে প্রদীপ জ্বালানো হয় না। এমনকি আরতির সময় প্রদীপ জ্বালাতেই হবে। আরতির সময় প্রদীপ জ্বালানো প্রাচীন রীতি। কথিত আছে, আরতির সময় জীবন থেকে অন্ধকার দূর করে জীবনে আলো বয়ে আসে।

তবে পুজো চলাকালীন হঠাত করে প্রদীপ নিভে যায়। জোড়ে বাতাস দিলে প্রদীপ নিভে যাওয়া স্বাভাবিক। অনেকসময় প্রদীপে তেল বা ঘি না থাকলেও আগুন নিভে যায়। কিন্তু আরতি বা পুজোর সময় প্রদীপ নিভে গেলে তা অমঙ্গল বলে মনে করা হয়। অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

কিন্তু প্রদীপ নিভে গেলে পরিবারে কী কী ঘটতে পারে, তা বাস্তুশাস্ত্রে নীতিগুলি জেনে নিন। প্রদীপ নিভে গেলে কী কী করবেন, ফের প্রদীপ জ্বালানো যায় কি, তাহলে প্রদীপ জ্বালানোর মন্ত্রটাই বা কী, তাও জেনে রাখা প্রয়োজন।

হিন্দুশাস্ত্র মতে, পুজোর সময় একটি প্রদীপ জ্বালানো বাড়িতে উপস্থিত নেতিবাচক শক্তি দূর করে ও ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে দেয়। যদি কেউ পূর্ণ মন ও ভক্তি সহকারে আরাধনা না করেন বা তার পুজোয় কিছু ভুলচুক হয়ে থাকে, তাহলে প্রদীপ নিভে গেলে তা অবশ্যই অশুভ লক্ষণ।এছাড়া বড় ইঙ্গিত হল,পুজোর সময় বৈদিক মন্ত্র দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে হবে।

এছাড়া খেয়াল রাখতে হবে প্রদীপের তেল ও প্রদীপ সবই যেন ঠিক জায়গায় থাকে, যাতে বাতি ঠিকমতো জ্বলতে থাকে ও মাঝখানে নিভে না যায়। তাই প্রদীপ জ্বালানোর সময় চারিপাশ নজর রেখে নিন।

প্রদীপ জ্বালানোর মন্ত্র: শুভম করোতি কল্যাণম, আরোগ্য ধনসম্পদম, শত্রু বুদ্ধি বিনাশয়, গভীর জ্যোতি নমোস্তুতে!! এই মন্ত্র দিয়ে প্রদীপ নিভে গেলে ফের জ্বালাতে পারেন।

যে কোনও পুজোর সময় কোনও কারণে প্রদীপ নিভে গেলে ক্ষমা চেয়ে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে আবার জ্বালাতে পারেন। ক্ষমা প্রার্থনার মন্ত্রটি নিম্নরূপ – আবাহনম্ ন জনমি ন জনমি বিসর্জনম্। পূজা চৈব ন জনামি খমস্ব পরমেশ্বর। মন্ত্র ছাড়া, কর্ম ছাড়া, ভক্তি ছাড়া জনার্দন। যপ্তুজিতম্ মায়া দেব!

নিয়ম মেনে পুজোর সময় প্রদীপ নিভিয়ে যাওয়া একটি অশুভ লক্ষণ। হিন্দুমতে, যার অর্থ পরিবারের যে কোনও সদস্য রোগের শিকার হতে পারেন অথবা আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়া ও অশুভ হওয়া। অনেক সময় ঘরে নেতিবাচক শক্তির কারণেও প্রদীপ নিভে যায়।

ভবিষ্যতে অনেক কষ্ট পেতে পারেন, এমনটাও আশঙ্কা হতে পারে। পুজো করার সময় যদি প্রদীপ নিভে যায় তাহলে পুজো অসম্পূর্ণ থেকে থাকে। আসতে পারে জীবনে নানা বাধা।

ভবিষ্যতে অনেক কষ্ট পেতে পারেন, এমনটাও আশঙ্কা হতে পারে। পুজো করার সময় যদি প্রদীপ নিভে যায় তাহলে পুজো অসম্পূর্ণ থেকে থাকে। আসতে পারে জীবনে নানা বাধা।