
জীবনে নানা সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই জন্মকুণ্ডলীর উপর রাগ গিয়ে পড়ে। জন্মকুণ্ডলীতে অনেক ধরনের অভিশপ্ত ত্রুটি থাকলে ব্যক্তির জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কাল সর্প দোষ হল অন্যতম। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, জন্মকুণ্ডলীতে যখন রাহু বা কেতু, যে কোনও একজনের প্রভাব পড়ে, তখন কালসর্প দোষ তৈরি হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যখন কোনও শিশু জন্মগ্রহণ করে, তখনই তার কুণ্ডলীতে অনেক ধরণের শুভ ও অশুভ যোগ তৈরি হয়। এই শুভ ও অশুভ যোগগুলি ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই অশুভ যোগের জেরে জীবনে নানা সমস্যা ও ঘটনা ঘটতে থাকে।

কখনও কখনও কুণ্ডলীতে অভিশপ্ত যোগ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হল কাল সর্প দোষ। এর মানে এই নয় যে ঘুমের সময় শুধুমাত্র সাপের স্বপ্ন দেখবেন। বরং জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটতে থাকে, যা থেকে বোঝা যায় কুণ্ডলীতে কাল সর্প যোগ রয়েছে। কাল সর্প দোষের লক্ষণগুলি কী কী, তা জেনে নেওয়া উচিত।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যদি কোনও ব্যক্তির কুণ্ডলীতে কাল সর্প দোষ থাকে তবে সেই ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় পড়তে হয়। সবসময় শারীরিক ও আর্থিকভাবে সমস্যায় যেন ঘিরে থাকে। শুধু তাই নয়, শিশু অবস্থা থেকেই নানা নেতিবাচক ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

জন্মকুণ্ডলীতে কালসর্পদোষ থাকলে কোনও ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকেন, আবার শিশু হলে সেই শিশু অত্যন্ত ভুগতে থাকে । শুধু তাই নয়, কাল সর্প দোষের কারণে ব্যক্তি বারবার চাকরি হারাতে থাকেন। ঋণের বোঝাও বাড়তে থাকে দিন দিন। এই ঘোরতর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জ্যোতিষশাস্ত্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জ্যোতিষশাস্ত্রে কাল সর্প দোষ দূর করার জন্য অনেক প্রতিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। কুণ্ডলীতে কাল সর্প দোষ থাকলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সর্বদা অশান্তি, বিবাদ দেখা দেয়। দাম্পত্যে চিড় ধরার আগে ঘরে ময়ূরের পালক পরিহিত শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করলে উপকার পাওয়া যায়। পূজার সময় ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় কৃষ্ণায় নমঃ শিবায় মন্ত্র নিয়মিত জপ করতে পারেন। তাতে কাল সর্প দোষ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

কুণ্ডলীতে কালসর্পদোষের কারণে কাজে কোনও ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে প্রতিদিন মহাদেব ও গোটা পরিবারের পুজো করুন। সমস্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজ শেষ করতে পারবেন।

একই সময়ে, কোনও কারণ ছাড়াই যদি মাথা গরম করে রেগে যান, তাহলে শিবলিঙ্গে মিষ্টি দুধের সাথে শণ গাছের পাতা নিবেদন করলে রাগ প্রশমিত হতে পারে। পাশাপাশি মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে কাল সর্প দোষের প্রভাবও কমে যায়।