বর্ষায় ঘুরে আসুন কলকাতা থেকে সামান্য দূরে এই ৮ অফবিট জায়গায়

রিমঝিম বৃষ্টির এই মরশুমে কলকাতার চেনা কংক্রিটের জঙ্গল, যানজট আর প্যাচপ্যাচে ভ্যাপসা গরম কারই বা ভালো লাগে! মন তখন চায় সবুজে ঘেরা কোনো নির্জন কোণে বসে এক কাপ গরম চা আর বৃষ্টির শব্দ উপভোগ করতে। কিন্তু হাতে যদি লম্বা ছুটি না থাকে? কুছ পরোয়া নেহি! বর্ষার রূপকে কাছ থেকে উপভোগ করতে আপনাকে দূর-দূরান্তে ছুটে যেতে হবে না। আমাদের তিলোত্তমার বুকেই লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু অফবিট এবং মনমুগ্ধকর জায়গা, যা কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।

|

Jun 16, 2026 | 8:03 PM

1 / 8
মেঘ-বৃষ্টির কোলাজ দামোদরের চরে: কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে, দামোদর আর ভাগীরথীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জায়গা বর্ষায় অনন্য রূপ নেয়। জলকপাটের (Sluice Gate) ওপর দিয়ে নদীর জলের গর্জন এবং চারপাশের সবুজ বনাঞ্চল বর্ষার দিনে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।

মেঘ-বৃষ্টির কোলাজ দামোদরের চরে: কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে, দামোদর আর ভাগীরথীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জায়গা বর্ষায় অনন্য রূপ নেয়। জলকপাটের (Sluice Gate) ওপর দিয়ে নদীর জলের গর্জন এবং চারপাশের সবুজ বনাঞ্চল বর্ষার দিনে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।

2 / 8

রাঙামাটির পথে বর্ষার গান: শান্তিনিকেতনের খোয়াই বর্ষাকালে সম্পূর্ণ অন্য রূপ ধারণ করে। কোপাই নদীর জল বেড়ে যাওয়া এবং সোনাঝুরি জঙ্গলের শাল-মহুল গাছের পাতা থেকে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ার দৃশ্য এক অদ্ভুত শান্তি দেয়। বর্ষার দিনে এখানকার মাটির সোঁদা গন্ধ আর বাউল গান মন ভালো করে দেবেই।

3 / 8

ইছামতীর বুকে বৃষ্টির রিমঝিম: কলকাতা থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরের সীমান্ত শহর টাকি। বর্ষার দিনে ইছামতী নদীর জল যখন কানায় কানায় ভরে ওঠে, তখন নদীর পাড়ে বসে ওপার বাংলার মেঘ-বৃষ্টির খেলা দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ। এখানকার গোলপাতার জঙ্গল বর্ষায় এক অদ্ভুত সবুজ চাদরে ঢেকে যায়।

4 / 8

রূপনারায়ণের তীরে শরৎচন্দ্রের স্মৃতি: রূপনারায়ণ নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শান্ত গ্রামটি বর্ষার মেঘলা আকাশে আরও রূপসী হয়ে ওঠে। নদীর পাড়ে বসে ঝিরঝিরে বৃষ্টি উপভোগ করার পাশাপাশি এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি থেকে।

5 / 8

পাহাড়ের কোলে মেঘেদের আনাগোনা: কলকাতা থেকে একটু দূরে হলেও, বর্ষায় উইকএন্ড কাটানোর জন্য এর চেয়ে সেরা জায়গা আর হয় না। পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানে বর্ষায় মেঘেরা এসে পাহাড়ের গা ছুঁয়ে যায়। পাহাড়, সবুজ জঙ্গল আর শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ—সব মিলিয়ে এক রূপকথার পরিবেশ।

6 / 8

ঝড়ো হাওয়া আর উত্তাল সমুদ্র: বর্ষায় সমুদ্রের এক অন্য রূপ দেখতে চলে যেতে পারেন হেনরি আইল্যান্ডে। ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মাঝখান দিয়ে কাঠের সেতু পেরিয়ে নির্জন সৈকতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা দারুণ। বর্ষার কালো মেঘ আর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন প্রকৃতির এক আদিম রূপকে সামনে আনে।

7 / 8

পাহাড়ের গায়ে কুয়াশার চাদর: আপনার কাছে যদি দিন তিনেকের ছুটি থাকে, তবে কলকাতা থেকে রাতের ট্রেনে এনজেপি পৌঁছে চলে যান লেপচাজগৎ বা সিটং-এ। বর্ষায় পাহাড়ের ধাপে ধাপে কুয়াশার আনাগোনা এবং পাহাড়ি ঝোরাগুলোর তীব্র গর্জন প্রকৃতির এক অনন্য রূপ। পাইন বনের নির্জনতা আর মেঘ-বৃষ্টির খেলা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

8 / 8

ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধন: অজয় নদীর তীরে অবস্থিত এই জঙ্গলকে মনে করা হয় রাজা সুরথের রাজ্য এবং মেধা মুনির আশ্রম। শাল ও পিয়ালের ঘন জঙ্গল বর্ষার জলে ধুয়ে যখন সতেজ হয়ে ওঠে, তখন এর গা ছমছমে সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে যায়। প্রকৃতির মাঝে যারা নির্জনতা ও ইতিহাস খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us