
স্প্লিট এসির মূল অংশ (কম্প্রেসার ও কনডেনসার) ঘরের বাইরে থাকে। অন্যদিকে, পোর্টেবল এসির সব পার্টস ঘরের ভেতরের একটি ইউনিটেই থাকে এবং পাইপের সাহায্যে জানলা দিয়ে গরম হাওয়া বাইরে বের করে।

স্প্লিট এসি ঘরকে দ্রুত ও সমানভাবে ঠান্ডা করে। কিন্তু পোর্টেবল এসি চলার সময় ঘরে সামান্য নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় বাইরের গরম হাওয়া আবার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে, ফলে ঘর ঠান্ডা হতে একটু বেশি সময় লাগে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে স্প্লিট এসি অনেক এগিয়ে। ১ টনের স্প্লিট এসি সাধারণত ৯০০-১১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ টানে, যেখানে পোর্টেবল এসির ক্ষেত্রে খরচ হয় প্রায় ১২০০-১৫০০ ওয়াট।

বাজারে থাকা বেশিরভাগ স্প্লিট এসিতে BEE স্টার রেটিং এবং ভালো ISEER স্কোর থাকে, যা বিদ্যুৎ বিল কমায়। তবে অধিকাংশ পোর্টেবল এসিতে এমন কোনো স্টার রেটিং থাকে না, ফলে গ্রীষ্মকালে বিল বেশি আসতে পারে।

শান্ত ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য স্প্লিট এসি সেরা, কারণ এর শব্দ হওয়া অংশটি ঘরের বাইরে থাকে। কিন্তু পোর্টেবল এসির পুরো সিস্টেম ঘরের ভেতরেই চলায় এটি বেশ খানিকটা আওয়াজ করে।

স্প্লিট এসি বসাতে দেওয়ালে ড্রিল করা এবং টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর বিপরীতে পোর্টেবল এসির কোনও ইনস্টলেশন ঝামেলা নেই, প্লাগ অন করেই চালানো যায়।

ভারতে ১-টন স্প্লিট এসির দাম সাধারণত ২৮,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে শুরু হয় (ইনস্টলেশন খরচ আলাদা)। পোর্টেবল এসির দামও প্রায় ৩০,০০০ টাকা বা তার বেশি পড়ে।

আপনার নিজের বাড়ি ও আউটডোর ইউনিট রাখার জায়গা থাকলে স্প্লিট এসি-ই সেরা দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প। তবে আপনি যদি বারবার বাড়ি বদলান বা দেওয়ালে ফুটো করার অনুমতি না থাকে, তবে পোর্টেবল এসি আপনার জন্য সুবিধাজনক।