
কিবোর্ডে টাইপ করার সময় খেয়াল করলে দেখবেন F আর J লেখা বোতাম দুটির ওপর ছোট্ট একটা উঁচু দাগ থাকে। অনেকে ভাবেন, এটা বোধহয় কোনও ডিজাইনের অংশ বা প্লাস্টিকের ত্রুটি। কিন্তু কিবোর্ড তৈরির পেছনে এই ছোট্ট দাগটির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ! Free Pik

কিবোর্ডের এই ছোট্ট বাম্প বা উঁচু দাগগুলোকে টেকনিক্যাল ভাষায় বলা হয় 'ট্যাকটাইল মার্কার' বা 'হোম রো মার্কার'। সোজা বাংলায় বলতে গেলে, এগুলো আসলে আপনার আঙুলের জন্য এক ধরনের দিশারির কাজ করে। চোখ না রেখেও শুধু ছুঁয়ে আপনি বুঝে যেতে পারবেন, আপনার হাত কিবোর্ডের ঠিক কোথায় রয়েছে। Getty Images

আসলে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত টাইপ করার কৌশলকে বলা হয় 'টাচ টাইপিং'। এই পদ্ধতিতে বাঁ হাতের তর্জনী F-এর ওপর এবং ডান হাতের তর্জনী J-এর ওপর থাকে। উঁচু দাগটি আঙুলে স্পর্শ করলেই টাইপিস্ট বুঝতে পারেন যে হাত দুটো সঠিক অবস্থানে রয়েছে। Getty Images

দুটো তর্জনী F আর J-তে ঠিকভাবে বসে গেলেই বাকি আঙুলগুলোকেও সঠিক জায়গায় রাখা সহজ হয়। বাঁ হাতের বাকি আঙুলগুলো A, S, D-র ওপর এবং ডান হাতের বাকি আঙুলগুলো K, L ও সেমিকোলন (;) কী-এর ওপর থাকে। এভাবেই হাতের সঠিক অবস্থান বজায় রেখে মনিটরের দিকে চোখ রেখেই দ্রুত টাইপ করা যায়। Getty Images

স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দ্রুত টাইপ করার সময় হাত কিছুটা এদিক-ওদিক সরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই দাগগুলো থাকার সুবিধে হলো, কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েই শুধু আঙুলের স্পর্শে খুব সহজে হাতকে আবার সঠিক পজিশনে ফিরিয়ে আনা যায়। Free Pik

বারবার নিচে কিবোর্ডের দিকে তাকালে টাইপিংয়ের গতি কমে যেতে পারে, সঙ্গে কাজের তালও কেটে যায়। এই ছোট্ট দুটো চিহ্ন আপনার হাতের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে, সময় বাঁচায় এবং দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাইপ করার অভ্যাস গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। Getty Images

ভাবছেন, এটা বুঝি আজকালকার ল্যাপটপের আধুনিক বুদ্ধি? একদম নয়! এই ধারণার শিকড় পুরনো দিনের টাইপরাইটারের যুগে। যুগে যুগে টাইপরাইটার থেকে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের কিবোর্ড বদলালেও, আঙুলের সঠিক অবস্থান বোঝানোর এই অভ্যাসটি এখনও রয়ে গিয়েছে। Getty Images

শুধু F আর J-তেই নয়, বেশিরভাগ কিবোর্ডের ডানপাশের নম্বর প্যাডের দিকে তাকালেও দেখবেন, ৫ লেখা বোতামটির ওপর এমন একটি দাগ থাকে। বড় হিসাবপত্র বা সংখ্যার তথ্য টাইপ করার সময় কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েই হাতের অবস্থান বুঝতে এই ট্যাকটাইল মার্কার সাহায্য করে। Getty Images