
যেকোনও ভ্রমণের শুরুতেই যাতায়াত, থাকা, খাওয়া এবং ঘোরার খরচ মিলিয়ে একটা আনুমানিক মোট বাজেট তৈরি করুন। পাহাড় বা সমুদ্র—জায়গাভেদে খরচের ধরন বদলে যায়, তাই শুরুতেই একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

পিক-সিজনে (যেমন পুজো বা বড়দিনের ছুটিতে) হোটেল ও গাড়িভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যায়। বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রিপ চাইলে ‘শোল্ডার সিজন’ (পিক-সিজনের ঠিক আগে বা পরে) বেছে নিন। এতে খরচ কমবে এবং ভিড়ও এড়ানো যাবে।

বাজেটের একটা বড় অংশ যায় যাতায়াতে। ট্রেন বা ফ্লাইটের টিকিট যত আগে কাটবেন, তত সস্তায় পাবেন। পাহাড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন ও লোকাল শেয়ার্ড গাড়ি এবং সমুদ্রের জন্য সরকারি বাস বা ট্রেন বাজেট অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

সমুদ্রে বিচ-ফেসিং হোটেল বা পাহাড়ে ভিউ-রুমের মোহ ছাড়তে পারলে পকেট বাঁচবে অনেকটাই। হোটেল বুকিং অ্যাপের অফার চেক করুন। পাহাড়ে বিলাসবহুল হোটেলের চেয়ে স্থানীয় হোমস্টে বেছে নিলে থাকা এবং খাওয়া—দুটোই বেশ সাশ্রয়ী হয়।

ট্যুরিস্ট স্পটের বড় রেস্তোরাঁর বদলে স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন। সমুদ্রের পাড়ে লোকাল শ্যাকের সি-ফুড কিংবা পাহাড়ে গরম থুকপা ও মোমো—এতে যেমন আসল সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়া যায়, তেমনই খাবারের বাজেটও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

কোন কোন পয়েন্টে ঘুরবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। পাহাড়ে একা গাড়ি বুক করলে খরচ অনেক বেশি, তাই অন্য ট্যুরিস্টদের সাথে ‘কার পুলিং’ বা গাড়ি শেয়ার করুন। সমুদ্রে অটো বা টোটো ভাড়া করে ঘুরলে খরচ অনেকটাই কমে।

পাহাড়ে প্যারাগ্লাইডিং বা সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিং-এর মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের খরচ আগে থেকে জেনে রাখুন। এছাড়া স্যুভেনির বা কেনাকাটার জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজেট আলাদা করে রাখুন, যাতে আবেগের বশে অতিরিক্ত খরচ না হয়ে যায়।

পাহাড়ে ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হওয়া বা সমুদ্রে হঠাত্ শরীর খারাপ—ভ্রমণে যেকোনো পরিস্থিতি আসতে পারে। তাই মূল বাজেটের বাইরে অন্তত ১০% থেকে ২০% টাকা 'ইমার্জেন্সি ফান্ড' হিসেবে আলাদা রাখুন, যা বিপদে ব্যাক-আপ দেবে। আর হ্যাঁ বছরের শুরুতে একটা খাম বা অ্যাকাউন্ট বানিয়ে ফেলুন। মাসে মাসে সেই খাতে ঘোরার জন্য আলাদা টাকা সরিয়ে রাখুন। দেখবেন, এতে চাপ কম পড়বে।