
রান্নায় ঝাল ও স্বাদ বাড়াতে গুঁড়ো লাল লঙ্কার জুড়ি মেলা ভার। তবে মাত্র ২১ দিন খাবার থেকে এই লাল লঙ্কা পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে, তা জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

লাল লঙ্কায় থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ উপাদান পেটের ভেতরের আস্তরণে অস্বস্তি তৈরি করে। ২১ দিন এটি না খেলে অ্যাসিডটি ও বুক জ্বালার সমস্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়।

অতিরিক্ত ঝাল মশলা পরিপাকক্রিয়ার ক্ষতি করে। লাল লঙ্কা থেকে দূরত্ব বজায় রাখলে হজমপ্রক্রিয়া বা ডাইজেশন প্রসেস স্বাভাবিক নিয়মে ফেরার সুযোগ পায়।

দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালের সিনিয়ার ডায়েটিশিয়ান ড. ফারেহা শানম জানান, ঝাল মশলা খাওয়ার কারণে অনেকেরই পেটে ব্যথা বা বারবার মলত্যাগের সমস্যা হয়। লাল লঙ্কা বাদ দিলে এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

যাঁরা নিয়মিত অতিরিক্ত লাল লঙ্কা খান, তাঁদের অনেকেরই মুখে ছাল ওঠা বা ঘা (Ulcer) এবং গলায় জ্বালাভাব দেখা যায়। ২১ দিন এটি এড়িয়ে চললে মুখের ভেতরের অস্বস্তি দূর হয়।

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আলসার বা ক্রনিক গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন, লাল লঙ্কা বর্জন করলে তাঁরা সবচেয়ে দ্রুত এবং ভালো ফলাফল হাতেনাতে পেতে পারেন।

চিকিৎসকদের মতে, লাল লঙ্কা শরীরের জন্য পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়। এর মধ্যে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ উপাদানটি মেটাবলিজম বাড়াতেও সাহায্য করে। তবে সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে। শরীর সুস্থ রাখতে লাল লঙ্কা একেবারে বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং রান্নায় এর পরিমাণ সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে বেশি শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কিছুদিনের জন্য এটি বন্ধ রাখা ভালো।