
ফ্রিজ থেকে বাসি ভাত বের করে বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ব্যাকটেরিয়া মরে না, উল্টে চটজলদি তা বংশবৃদ্ধি করে। তাই বাসি ভাত খেতে হলে ফ্রিজ থেকে বের করে একবারই হালকা গরম করে নেওয়া উচিত।

রাতে বেঁচে যাওয়া ভাতে জল দিয়ে রাখলে তা গেঁজিয়ে পান্তা ভাত তৈরি হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এই বাসি ভাতে কার্বোহাইড্রেটের ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া ঘটে, যা শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি বা শক্তি জোগাতে দারুণ সাহায্য করে।

জল দেওয়া বাসি ভাতে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া (Probiotics) তৈরি হয়। এই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের হজম ক্ষমতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টাটকা ভাতের তুলনায় জল দেওয়া বাসি ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে এটি শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

যদি ভাত জল না দিয়ে এমনিই ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ (৪ ঘণ্টার বেশি) রেখে দেওয়া হয়, তবে তাতে 'ব্যাসিলাস সেরিয়াস' (Bacillus cereus) নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এই বাসি ভাত খেলে ডায়রিয়া, বমি বা ফুড পয়জনিং হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।

বাসি ভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। এর ফলে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য সকালে পরিমিত পরিমাণে জল দেওয়া বাসি ভাত খাওয়া বেশ উপকারী হতে পারে।

বাসি ভাত ফ্রিজে রেখে পরদিন তেল দিয়ে ভেজে (Fried Rice বা গরম করে) খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাসি ভাত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করে, যা দ্রুত মেদ ও ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাঁদের পেটে আলসার বা হাইপার-অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সকালে জল দেওয়া বাসি ভাত বা পান্তা ভাত উপশমকারী হিসেবে কাজ করে। এটি পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।