
আষাঢ় মাস হল সমস্ত জাগতিক সুখ-ভোগ থেকে দূরে থেকে স্নান-দান, পুজো-পার্বণ, ব্রত ও সাধনায় লীন হওয়ার সময়। এই মাসে বিয়ে, মুণ্ডন সংস্কার, নামকরণ এবং গৃহপ্রবেশের মতো সমস্ত ধরনের শুভ ও মাঙ্গলিক কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, আষাঢ় মাসে পুজোর পাশাপাশি যদি তুলসী দেবীর কিছু বিশেষ প্রতিকার বা উপায় করা যায়, তবে জীবনের সমস্ত আর্থিক অনটন দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
কী করবেন?
১. তুলসী গাছে জল অর্পণ ও পরিক্রমা: যে বাড়িতে প্রতিদিন নিষ্ঠাভরে তুলসী পুজো করা হয়, সেখানে স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী বাস করেন। আষাঢ় মাসে প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে তুলসী গাছে জল ঢালুন। জল দেওয়ার সময় মনে মনে ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র জপ করুন এবং তুলসী মঞ্চের ৭, ১১ বা ২১ বার পরিক্রমা করুন। তবে মনে রাখবেন, রবিবার এবং একাদশীর দিন তুলসী গাছে জল দেওয়া নিষেধ।
২. তুলসীতলায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: এই পবিত্র মাসে প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় তুলসী গাছের নিচে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। বিশ্বাস করা হয়, এমনটা করলে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ধন-সম্পদ ও ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে।
৩. বিষ্ণু পুজোয় তুলসী: আষাঢ় মাসে প্রতিদিন নিয়ম করে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করুন এবং তাঁর ভোগে অবশ্যই তুলসী পাতা (তুলসীদল) নিবেদন করুন। তুলসী ছাড়া শ্রী হরির পুজো বা ভোগ অধরাই থেকে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন, রবিবার এবং একাদশীর দিন ভুলেও তুলসী পাতা তুলবেন না।
৪. তুলসীতলায় বিষ্ণু মন্ত্র জপ: এই মাসে প্রতিদিন তুলসী গাছের সামনে বসে ভগবান বিষ্ণুর মহাশক্তিশালী মন্ত্র ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ জপ করুন। তুলসী দেবীর সামনে বসে এই মন্ত্র জপ করলে পুজোর ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৫. তুলসী গাছে দুধ নিবেদন: আষাঢ় মাসের প্রতি শুক্রবার তুলসী গাছে জল দেওয়ার সময় তাতে সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শুক্রবার তুলসী দেবীকে কাঁচা দুধ মিশ্রিত জল অর্পণ করলে কোপমুক্ত হন অলক্ষ্মী এবং অত্যন্ত দ্রুত আর্থিক উন্নতির যোগ তৈরি হয়।