
গাছ না থাকলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। প্রকৃতিতে এখনও সবুজের অস্তিত্ব রয়েছে বলে, পৃথিবীতে টিকে রয়েছে সমস্ত প্রাণ। ফলে গাছের গুরুত্ব এই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুধর্মে ও বাস্তুশাস্ত্রেও গাছের গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। বাড়ির অন্দরে, বাইরে ও রাস্তার ধারে কীভাবে ও কোন কোন গাছ পোঁতা সুবিধার ও উপকারিতা রয়েছে, তা জানা যায় এই শাস্ত্রগুলিতে। ধর্মীয় মতে, একজন মানুষ মারা গেলে তার শেষকৃত্যের সময় প্রায় একটি গাছের সমান কাঠ পোড়ানো হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, গোটা জীবন তো বটেই, মৃত্যুর পরও মানুষ গাছের কাছে ঋণী হয় ওঠেন। তাই সারাজীবন বৃক্ষরোপন করলে এই ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাতে গোটা প্রজন্ম উপকার পেয়ে থাকে। বৃক্ষরোপনের উপকারিতা বুঝতে বুঝতে জীবন শেষ হয়ে যায়। তবে সেই মহাঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ারও উপায় রয়েছে। হোলির দিনে রাস্তার ধারে বেশ কিছু গাছ পুঁতলে সারাজীবন অর্থ ও ধনসম্পত্তি বজায় থাকে। এই হোলিতে মহাঋণ থেকে মুক্তি পেতে রাস্তার ধারে কী কী গাছ লাগাবেন, তা জেনে নিন এখানে…
হিন্দুধর্ম অনুসারে, এই হোলিতে গুরুতর সমস্যা ও রোগভোগ থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে বা মাঠে ৫টি পলাশ গাছ লাগানো উচিত। তাতে সব কষ্ট দূর হবে। জ্যোতিষশাস্ত্রে, পলাশ গাছ অত্যন্ত পবিত্র ও উপকারী বলে মনে করা হয়। ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে এই গাছ রোপন করা ভাল।
মঙ্গলদশার কোপে পড়লে হোলির দিন কখনও হাতছাড়া করবেন না। কারণ মঙ্গলদোষ কাটাবার সুবর্ণ দিন হল এদিন। মঙ্গল গ্রহের ক্রোধ থেকে রক্ষা পেতে, হনুমান মন্দির বা রাম দরবারের কাছে ২টি হরসিঙ্গার বা শিউলি গাছ লাগানো। যদি সম্ভব না হয় তাহলে বাড়ি চত্বরে এই গাছগুলি লাগান।
সূর্যদেবের আশীর্বাদে জীবনে সুখ শান্তি বজায় থাকে। হোলি উপলক্ষে, সূর্যদেবকে তুষ্ট করতে কোনও জায়গায় একটি আকন্দ গাছ লাগাতে পারেন। তাতে সূর্যদেবের অশুভ নজর পড়বে না, প্রতিটি কাজে উন্নতি আসবে হু হু করে।
কুণ্ডলীতে শুক্রের দোষ থাকে বা শুক্রের প্রকোপে সমস্যায় পড়েন, তাহলে হোলিতে গাছ লাগিয়ে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। জ্যোতিষীর মতে, শুক্রের দোষ কাটাতে বাড়ির ভিতর বা বাইরে যে কোনও জায়গায় ডুমুর গাছ লাগাতে পারেন।
শনিদেবকে ন্যায়ের দেবতা বলে মনে করা হয়। কিন্তু শনির তির্যক দৃষ্টি যে কোনও ব্যক্তির ওপর পড়লে সেই দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কষ্টকর। বহু বছর ধরে সেই সমস্যায় পড়ে থাকতে হয়। তাই শনিপ কুনজর থেকে মুক্তি পেতে রাস্তার ধারে শমী বা বটগাছের ৭টি চারা রোপন করা উচিত।
রাহুর দৃষ্টি কারওর উপর পড়লে সেই ব্যক্তির জীবন নষ্ট হয়ে যায়। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, রাহুর প্রকোপ এড়ানো সম্ভব। রাহুর প্রকোপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে যেকোনও জায়গায় চন্দন, নিম, ডালিম বা পিপলের সাতটি গাছ লাগালেই হবে।
রাহু-কেতুর কুপ্রভাব এড়াতে গাছ রোপন করতে পারেন। একথা জ্যোতিষশাস্ত্রেও উল্লেখ রয়েছে। জ্যোতিষীর মতে, কেতুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে অশ্বগন্ধা বা বটগাছের ৭টি গাছ লাগাতে পারেন। হোলি উপলক্ষ্যে গাছ লাগালে জীবনের সমস্ত কষ্ট দূর হতে পারে।