
প্রতি বছরের মত এবারেও মকর সংক্রান্তি পালিত হচ্ছে ১৫ জানুয়ারি। সাধারণত, এই বিশেষ দিনটিতে সূর্যদেব মকর রাশি থেকে শনিতে প্রবেশ করে। এই দিনের পর যত আটকে থাকা কাজ বা পণ্ড হয়ে যাওয়া কাজ সুন্দর করে সমাপ্তি ঘটে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, ধনু রাশিতে অর্থাত খরমাস থাকার ফলে সূর্যের পরিবর্তনের কারণে বন্ধ ছিল। আগামী ১৫ জানুয়ারি পালিত হবে মকর সংক্রান্তি। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত।
গঙ্গা স্নানের গুরুত্ব
মকর সংক্রান্তির দিন বিশেষ সূর্যদেবের পুজো করা হয়ে থাকে। জ্য়োতিষশাস্ত্র মতে, সূর্য হল শক্তির প্রতীক। তাই এই সময় প্রতিদিন সূর্যের পূজা করা উচিত। যাদের রাশিতে সূর্যের অবস্থান সঠিকস্থানে নেই, তাদের প্রতিদিন সূর্য নারায়ণকে নমস্কার এবং জল অর্পণ করা উচিত। বিশেষ করে প্রতি সূর্য সংক্রান্তিতে এই নিয়ম মেনে চলা উচিত। মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গায় স্নান করারও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কথিত আছে এ দিনে প্রয়াগে স্নান করলে সমস্ত জন্মের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। এ দিনে জল নিবেদন ও দান করলে সূর্যের আশীর্বাদ পাওয়া যায় অপার।
পৌরাণিক কাহিনি
সূর্যের উপাসনার পাশাপাশি এই উৎসবটি ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও যশোদার সঙ্গেও জড়িত। কিংবদন্তি অনুসারে, যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন উপবাস করেছিলেন। সাধারণত শ্রীরাম ত্রেতাযুগে বনবাস থেকে ফিরে আসার পর, কৈকেয়ী তাকে বলেছিলেন যে পরবর্তী জীবনে, আমার গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহণ করবেন। আপনার মা হওয়ার সৌভাগ্য যেন থাকে। সেই সময় কৈকেয়ীর সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করেন। এতে রাণীমা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার এই প্রতিক্রিয়ায় রামচন্দ্র জানিয়েছিলেন, মা, তুমি কষ্ট পেয় না। কৈকেয়ীর অনুরোধে তাঁর জগর্ভেই জন্মগ্রহণ করবে। পুত্র হিসেবে তিনি ডাকতেই পারতেন। এই কারণে, দ্বাপরে, ভগবান রাম মা দেবকীর গর্ভ থেকে শ্রী কৃষ্ণ রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু ঘটমাচক্রে তিনি মা যশোদার কাছেই বড় হতে থাকেন। তাই শ্রী কৃষ্ণকে যশোদা নন্দনও বলা হয়।